kalerkantho

বুধবার । ১২ মাঘ ১৪২৮। ২৬ জানুয়ারি ২০২২। ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

আখের জমি কমেছে দুই-তৃতীয়াংশ

♦ লোকসানের ঝুঁকি নিয়েই দুই চিনিকলে উৎপাদন শুরু
♦ নাটোরে আখের অভাবে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই উৎপাদন বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা

নাটোর প্রতিনিধি   

৬ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আখের জমি কমেছে দুই-তৃতীয়াংশ

কম জমির আখ নিয়েই শুরু হলো নাটোর চিনিকল ও নর্থ বেঙ্গল চিনিকলে উৎপাদন প্রক্রিয়া। আগের অর্থবছরের তুলনায় এবার নাটোর চিনিকলের অধীন আখের জমি কমেছে দুই-তৃতীয়াংশ। আর প্রায় অর্ধেক জমি কমেছে নর্থ বেঙ্গল চিনিকলের আখ চাষের জমি।

চিনিকল সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে নাটোর চিনিকলের আওতাধীন আখের জমি ছিল ১৪ হাজার ৫৮৪ একর।

বিজ্ঞাপন

২০২০-২১ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৫৩৫ একরে। আর একই সময়ে নর্থ বেঙ্গল চিনিকলে ২৬ হাজার ৫০ একর জমি কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৫৬৪ একরে।

গত শুক্রবার বিকেলে ডোঙ্গায় আখ ফেলে নাটোর চিনিকলের আখ মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধন করা হয়, কিন্তু প্রয়োজনীয় আখের অভাব থাকায় গতবারের মতো এবারও কোটি কোটি টাকা লোকসানে পড়ার আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সরকারের প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতার অভাব ও আখ চাষিদের হয়রানির কারণে চিনিকল দুটির দুরবস্থা কাটছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আখ চাষি নেতা ও কর্মকর্তারা।

চিনিকল সূত্রে জানা গেছে, গত বছরও চাহিদা অনুযায়ী আখের সরবরাহ ছিল না। ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই মাড়াইয়ের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এতে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ চিনি উৎপাদন না হওয়ায় দুটি চিনিকলে লোকসানের বোঝা দাঁড়ায় ৫২ কোটি টাকা। অন্যদিকে সময়মতো মূল্য না পাওয়ায় আখ চাষেও আগ্রহ হারান চাষিরা।

নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি গোলাম কাউসার ও সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন পিন্টু বলেন, ‘চাষিদের সময়মতো আখের মূল্য পরিশোধ করতে না পারাসহ সার, বীজ ও কীটনাশক না দেওয়ায় আখ চাষ কমে গেছে। ’ এ অবস্থায় চাষিদের প্রণোদনার আওতায় আনার পাশাপাশি উন্নতমানের আখ বীজ সরবরাহের মাধ্যমে সংকট নিরসনের দাবি জানান তিনি।

চাষি নেতা মসলেম উদ্দিন বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে চাষিরা মিলে আখ দিলেও সময়মতো টাকা পাননি। এ ছাড়া আগে সার, বীজ ও কীটনাশক দেওয়া হলেও গত বছর তা করা হয়নি। ফলে চাষিরা আখ চাষে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়েছেন। ফলে কমছে আখের আবাদ। ’

নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘গত মৌসুমে আখসংকটে নির্ধারিত সময়ের আগেই মিল বন্ধ করে দিতে হয়েছে। ফলে মিলটি ২২ কোটি টাকা লোকসান করেছে। এ বছর আখ উৎপাদন কমের কারণে লক্ষ্যমাত্রাও কম ধরা হয়েছে। ’

নাটোর চিনিকলের মহাব্যবস্থাপক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘গত মৌসুমে নাটোর চিনিকল ৩০ কোটি টাকা লোকসান করেছে। এ বছরও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে সংশয়ে রয়েছি। ’

সূত্র আরো জানায়, নাটোর চিনিকলে ৫০ হাজার টন আখ মাড়াই করে তিন হাজার ২৫০ টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে মৌসুমের উদ্বোধন করা হয়েছে। গত শুক্রবার বিকেলে কেইন ক্রাশার মেশিনে আখ ফেলে চলতি মৌসুমের মাড়াই কার্যক্রম উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের পরিচালক (ইক্ষু উন্নয়ন ও গবেষণা) কৃষিবিদ আশরাফ আলী।

অন্যদিকে ২৯ নভেম্বর নাটোরের লালপুর নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলে ১২ হাজার ৬০০ টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আখ মাড়াই মৌসুমের উদ্বোধন করেন নাটোর-১ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বকুল ও বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান অপু। চিনি আহরণের গড়হার নির্ধারণ করা হয় ৬.৫০ শতাংশ, কিন্তু প্রয়োজনীয় আখের অভাবে চিনিকল দুটি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কারণ হিসেবে প্রয়োজনীয় সার, বীজ ও কীটনাশক কৃষক পর্যায়ে না পৌঁছনো ও সময়মতো চাষিদের আখের দাম পরিশোধে ব্যর্থতাকে দায়ী করছেন তাঁরা।



সাতদিনের সেরা