kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ মাঘ ১৪২৮। ১৮ জানুয়ারি ২০২২। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

৬০০ গ্রাহকের টাকা নিয়ে উধাও সমিতি

বগুড়ার বাঁধবাসী একতাবদ্ধ শ্রমজীবী সমবায় সমিতির নামে প্রতারণার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

৫ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে ৬০০ গ্রাহকের কয়েক কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়েছেন বাঁধবাসী একতাবদ্ধ শ্রমজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের পরিচালকরা। সমিতির সদস্যরা বিভিন্ন অফিস ও প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সুফল পাচ্ছেন না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সারিয়াকান্দি সদর ইউনিয়নের দীঘলকান্দি ছয় মাথার মোড়ে বাঁধবাসী একতাবদ্ধ শ্রমজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড নামে একটি সমিতি ২০০৪ সালে স্থাপিত হয়। উপজেলার পৌর এলাকাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে সমিতির সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ওই সমিতির সদস্যসংখ্যা ৬০০-রও বেশি। সদস্যদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় মাসিক সঞ্চয় ও সাপ্তাহিক সঞ্চয়ের কথা বলে টাকা উত্তোলন করতেন সমিতির লোকজন। কয়েক দিন ধরে সমিতির পরিচালকসহ কর্মকর্তাদের কাউকেই পাওয়া যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে সমিতির সদস্য পৌর এলাকার হিন্দুকান্দি গ্রামের মৃত মফছের আলীর ছেলে শমশের আলী (৬২) সারিয়াকান্দি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগসূত্রে জানা গেছে, সদর ইউনিয়নের দীঘলকান্দি গ্রামের খোরশেদ আলী, টুকু মিয়া, জহির রায়হান, রহিম মিয়া ও মিঠু মিয়া ওই সমবায় সমিতি খুলে তাঁর কাছ থেকে কয়েক বছরে ১৮ লাখ ২১ হাজার ৫০০ টাকা নিয়েছে। বর্তমানে সমিতির কাউকেই খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি। কার্যালয়ও তালাবদ্ধ।

পৌর এলাকার চা দোকানি লিচু মিয়া বলেন, ‘ওই সমিতিতে আমার সাত লাখেরও বেশি টাকা জমা আছে।’ সদর ইউনিয়নের পারতিত পরল গ্রামের রতন মিয়ার স্ত্রী সঞ্চিতা বেগম বলেন, ‘বাড়িতে টিউবওয়েল বসানের জন্য ওই সমিতিতে গত বছর থেকে দুজনের নামে দৈনিক ৫০ টাকা করে জমা করছি। সর্বমোট ৩১ হাজার টাকা জমা হয়েছে। সমিতির লোকজনের উধাও হওয়ার খবরে আমাদের সংসারে এখন অশান্তি চলছে।’

সারিয়াকান্দি উপজেলার সাবেক সমবায় কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন সিদ্দিকী বলেন, ‘আমি থাকাকালে সমিতিটি রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত হয়েছে। তাদের বিভিন্ন অনিয়মের জন্য এর আগেও নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।’

সারিয়াকান্দি পৌরসভার মেয়র মতিউর রহমান মতি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে প্রতিনিয়ত শত শত সদস্য আমার কাছে অভিযোগ নিয়ে আসছেন। অসহায়দের টাকা ফিরিয়ে দিতে আমি তাঁদের আশ্বস্ত করেছি। এই বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি।’

সারিয়াকান্দি থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। মানবিক দিক বিবেচনায় সমিতির অসহায় সদস্যদের টাকা উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’



সাতদিনের সেরা