kalerkantho

শনিবার । ১৫ মাঘ ১৪২৮। ২৯ জানুয়ারি ২০২২। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ছাত্রদের দিয়ে পাহাড় কাটান শিক্ষক

বাঁশখালীতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে কাটা পাহাড় ধসে দিনমজুরের ছেলের মৃত্যু

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

৫ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছাত্রদের দিয়ে পাহাড় কাটান শিক্ষক

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার জঙ্গল পাইরাং গ্রামে কাটা হয়েছে ফকিরা পাহাড়। ছবি : কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ছাত্রদের দিয়ে মাদরাসা শিক্ষকের ঝুঁকিপূর্ণভাবে কাটা পাহাড় ধসে এক দিনমজুরের ছেলের মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটলেও গতকাল শনিবার বিকেল পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি স্থানীয় প্রশাসন। অন্যদিকে ঘটনা ধামাচাপা দিতে ‘খেলতে গিয়ে শিশুর মৃত্যু হয়েছে’ বলে মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে ওই মাদরাসা শিক্ষকের লোকজন। নিহত শিশু সায়মুন (৫) উপজেলার সরল ইউনিয়নের জঙ্গল পাইরাং গ্রামের দিনমজুর রশিদ আহমদের ছেলে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জঙ্গল পাইরাং গ্রামের ফকিরা পাহাড়ের পাদদেশে দিনমজুর রশিদ আহমদ স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। ২৫ দিন ধরে রশিদ আহমদ রাউজান উপজেলায় ধান কাটার কাজ করছিলেন। এ সুযোগে মাদরাসাতুল ইসলামিয়া রহমানিয়া দারুল উলুম ও এতিমখানার শিক্ষক হাফেজ মো. আলী হোসেন প্রতিবেশী রশিদ আহমদের ঘরের সঙ্গে লাগোয়া পাহাড় কেটে তাঁর বাড়ি ভরাট শুরু করেন। মাদরাসার এতিম শিশুদের দিয়ে পাহাড় কাটার কাজ করছিলেন তিনি। এ কাজে অনভিজ্ঞ ছাত্ররা ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাহাড় কাটে। গত শুক্রবার বিকেলে মাদরাসার ছাত্ররা মাটি কেটে যাওয়ার ১৫ মিনিট পর পাহাড়ের একটি অংশ সায়মুনের (৫) ওপর ধসে পড়ে। আহত সায়মুনকে সঙ্গে সঙ্গে বাঁশখালী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এর পর থেকে প্রভাবশালী মহল ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে শিশুটি খেলতে গিয়ে মাটিচাপায় মরেছে বলে প্রচার চালাচ্ছে।

নিহত শিশু সায়মুনের বাবা রশিদ আহমদ বলেন, ‘আমি ২৫ দিন ধরে রাউজান উপজেলায় ধান কাটার কাজ করছিলাম। গত শুক্রবার রাতে ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে ছুটে এসেছি। আমার স্ত্রী শাহনাজ আক্তারকে হুমকি-ধমকি দিয়ে মাদরাসা শিক্ষক হাফেজ আলী হোসেন আমার ঘরের সঙ্গে লাগোয়া পাহাড়টি কেটেছেন। সরল ইউনিয়নের সরল গ্রামের মৃত আমিরুজ্জামানের ছেলে হাফেজ আলী হোসেন সম্প্রতি জঙ্গল পাইরাংয়ে এসে নিজের নতুন বাড়িটি তৈরি করছেন। মাদরাসার এতিম ছেলেদের দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাহাড় কাটছিলেন তিনি। আমি এই ঘটনার সঠিক তদন্ত ও বিচার চাই। ’

ঘটনার পর গাঢাকা দিয়েছেন অভিযুক্ত মাদরাসা শিক্ষক মো. আলী হোসেন। তবে এ ঘটনায় আলী হোসেনের স্ত্রী উম্মে হাবিবা বলেন, ‘পাহাড়টি শুধু আমরা কাটিনি। এই পাড়ার জাফর আহমদও কেটেছে। ’

স্থানীয় ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন বলেন, ‘পাহাড়খেকোদের বিরুদ্ধে জোরালোভাবে প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিলে শিশু সায়মুনের মতো অনেক শিশুকে প্রাণ হারাতে হবে। ’

আল মাদরাসাতুল ইসলামিয়া রহমানিয়া দারুল উলুম ও এতিমখানার পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমার মাদরাসার হাফেজ বিভাগের শিক্ষক মো. আলী হোসেনের কয়েকজন এতিম শিশুছাত্রকে দিয়ে পাহাড় কাটার খবরটি শুনেছি। ওই ঘটনায় নাকি একটি শিশু মারা গেছে। ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। এমনটা হলে তদন্ত করে ওই শিক্ষককে মাদরাসা থেকে বের করে দেওয়া হবে। ’

বন বিভাগের কালীপুর রেঞ্জের বন কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমি পাহাড় কাটায় শিশুমৃত্যুর খবর জানি না। তবে এখন শুনলাম। এই ব্যাপারে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

বাঁশখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাসুদ বলেন, ‘ঘটনাস্থল আমি তদন্ত করেছি। শিশুমৃত্যুর ব্যাপারে কোনো অভিযোগ না থাকায় এই ঘটনায় বাঁশখালী থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। ’



সাতদিনের সেরা