kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ মাঘ ১৪২৮। ২৮ জানুয়ারি ২০২২। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ঘটনাস্থল চৌগাছা

সীমান্তে ঢাকার ব্যবসায়ীর লাশ

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি   

৪ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



যশোরের চৌগাছার সীমান্তবর্তী মাশিলা-গদাধরপুর বাঁওড় থেকে পুলিশ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে। অবৈধভাবে রাতের আঁধারে বাঁওড় পার হয়ে ভারতে যাওয়ার সময় ওই ব্যক্তি হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্বজনরা তাঁর লাশ শনাক্ত করেছেন। পুলিশ বলেছে, মৃত ব্যক্তির শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

মৃত ব্যক্তির নাম রফিকুল ইসলাম জনি (৫৮)। পেশায় ব্যবসায়ী রফিকুল ঢাকায় বসবাস করছিলেন।

পুলিশ, এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, মাশিলা ও গদাধরপুর গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে বাঁওড়ে মাছ ধরতে গিয়ে পানিতে একটি মৃতদেহ ভাসতে দেখেন। পুলিশ খবর পেয়ে রাতেই লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এলাকাবাসী মৃত ব্যক্তিকে চিনতে না পারায় পুলিশ তাঁর ছবি সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকে পোস্ট করে। স্বজনরা ছবি দেখে চিনতে পেরে শুক্রবার সকালে চৌগাছা থানায় গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন।

নিহতের বড় ভাইয়ের মেয়েজামাই যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রামের শাহারুল আলম আশা ও নিহতের ভাগ্নে যশোর সরকারি পলিটেকনিক কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোশরেক আহমেদ জানান, রফিকুল বাংলাদেশের নাগরিক, তবে তাঁর পরিবারের অনেকেই ভারতে থাকেন। ছোটবেলায় তিনি বাংলাদেশে চলে আসেন। তিনি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ালেখা করেছেন। তিনি ঢাকাতে বসবাস করেন, তাঁর স্ত্রী ব্যাংকার।

স্বজনরা আরো জানান, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বেড়াচাপায় রফিকুলের মা, বাবাসহ অন্যরা বসবাস করছিলেন। গত বছর তাঁর মা মারা যান। করোনা পরিস্থিতির কারণে তিনি ভারতে যেতে পারেননি। সম্প্রতি মায়ের কবর জিয়ারত করার জন্য ভারতে যেতে উদগ্রীব হয়ে ওঠেন। ধারণা করা হচ্ছে, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে তিনি ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। বাঁওড় পার হয়ে যাওয়ার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পানিতে পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়। নিহতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই বলে পুলিশ ও স্বজনরা জানান।

চৌগাছা থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, শুক্রবার সকালে নিহতের স্বজনরা এসে মরদেহ শনাক্ত করেন। ময়নাতদন্তের জন্য যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট আসার পর মৃত্যুর রহস্য জানা যাবে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গদাধরপুর গ্রামের শান্তিকে থানায় নেওয়া হয়েছে।



সাতদিনের সেরা