kalerkantho

সোমবার । ৩ মাঘ ১৪২৮। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

২০ হাজার টন সার গায়েব

যমুনা সার কারখানার বাণিজ্যিক শাখার ব্যবস্থাপক ওয়ায়েছুর রহমানসহ তিনজনকে সাময়িক বরখাস্ত।

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি   

৪ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জামালপুরের সরিষাবাড়ীর যমুনা সার কারখানা থেকে ২০ হাজার টন ইউরিয়া সার গায়েব হয়েছে। এ ঘটনায় যমুনা সার কারখানার তিন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) চেয়ারম্যান শাহ মো. এমদাদুল হক স্বাক্ষরিত এক অভিযোগপত্রের মাধ্যমে গত বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানা যায়।

সার গায়েব হওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মকর্তারা হলেন যমুনা সার কারখানার বাণিজ্যিক শাখার (বিক্রয় বিভাগ) ব্যবস্থাপক ওয়ায়েছুর রহমান, সাবেক মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) খোকন চন্দ্র দাস ও জেএফসিএল রসায়নবিদ নজরুল ইসলাম। এ ছাড়া এ ঘটনায় সাতজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

কারখানা সূত্রে জানা যায়, জামালপুরের সরিষাবাড়ীর তারাকান্দি যমুনা সার কারখানায় ২০১২ সাল থেকে বিক্রয় শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন ওয়ায়েছুর রহমান। কারখানায় উৎপাদিত সারের গুদাম-১ ও আমদানি সারের গুদাম-২সহ বিভিন্ন স্থানে রক্ষিত সারের ব্যাগ রক্ষণাবেক্ষণ ও বিতরণের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তিনি। দায়িত্ব পালনকালে তাঁর বিরুদ্ধে কারখানায় উৎপাদিত সারের মজুদের সঙ্গে ২০ হাজার টন সারের গরমিলের অভিযোগ ওঠে। এর আর্থিক ক্ষতি দেখানো হয় ৩০ কোটি ২৬ লাখ ৬৩৬ টাকা। এই বিশাল অঙ্কের সার কেলেঙ্কারির অভিযোগে বিসিআইসি ২৬ সেপ্টেম্বর ছয় সদস্যের একটি প্রাথমিক তদন্ত কমিটি গঠন করে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে তারা সরেজমিনে তদন্তের কাজ শুরু করে।

তদন্ত চলাকালে তারা কারখানার গুদামে রক্ষিত উৎপাদিত সারের ব্যাগ ও ভালভ স্টোরে লুজ সারের পরিমাপ করে। এতে ১৯ হাজার ১৩৩ টন সার ঘাটতি দেখতে পায়। এর ফলে প্রায় ২০ হাজার টন সার আত্মসাতের দায়ে কারখানার বিক্রয় শাখার প্রধান ওয়ায়েছুর রহমান ও তাঁকে এ কাজে সহযোগিতার জন্য সাবেক মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) খোকন চন্দ্র দাস ও জেএফসিএল রসায়নবিদ নজরুল ইসলামকে অভিযুক্ত করে তদন্ত কমিটি। এ ছাড়া কারখানার বিক্রয় শাখার প্রধান ওয়ায়েছুর রহমানের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটির সঙ্গে অসহযোগিতা ও অসদাচরণের অভিযোগও উপস্থাপন করা হয়। পরে ওই তিন কর্মকর্তা ২০ হাজার টন সার আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত যমুনা সার কারখানার বাণিজ্যিক শাখার (বিক্রয় বিভাগ) ব্যবস্থাপক ওয়ায়েছুর রহমান জানান, সার কারখানা থেকে সার আত্মসাতের কোনো সুযোগ নেই। কারখানায় গুদাম না থাকায় বিভিন্ন সময়ে রোদ-বৃষ্টিতে বিপুল পরিমাণ সার নষ্ট হওয়ায় প্রকৃত হিসাবে গরমিল হয়েছে।

যমুনা সার কারখানায় দায়িত্বরত জিএম (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন জানান, সার কারখানায় বাণিজ্যিক শাখার (বিক্রয় বিভাগ) ব্যবস্থাপক ওয়ায়েছুর রহমান, সাবেক মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) খোকন চন্দ্র দাস ও জেএফসিএল রসায়নবিদ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয়ভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে সার আত্মসাতের ঘটনায় তাঁদের জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে। এ ঘটনায় তাঁদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা