kalerkantho

সোমবার । ৩ মাঘ ১৪২৮। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

এক ভুলে গচ্চা ১৭১ কোটি টাকা

♦ বগুড়া শহরের সাতমাথা থেকে শজিমেক হাসপাতালের দূরত্ব ২.৫ কিমি
♦ ২০০৫ সালে সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে দূরত্ব ধরা হয় ৪ কিমি
♦ প্রকল্প ব্যয় ছিল ১৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা
♦ সর্বশেষ ব্যয় ধরা হয় ১৮৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা
♦ ১৬ বছরে ব্যয় বেড়েছে ১৪ গুণ

লিমন বাসার, বগুড়া   

৪ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এক ভুলে গচ্চা ১৭১ কোটি টাকা

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কাজ ১৬ বছর ধরে পড়ে আছে। এতে যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাচ্ছে রোগীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

বগুড়ায় একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে একটি ভুলের কারণে ১৭১ কোটি টাকা ব্যয় বেড়েছে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বগুড়া শহরের সাতমাথা থেকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে যাওয়ার রাস্তা নির্মাণ শুরু হয় ২০০৫ সালে। ৬০ ফুট প্রস্থের সড়কের ব্যয় ছিল ১৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। কাজ শুরুর পর ধরা পড়ে, চার কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের প্রকৃত দূরত্ব ২.৫ কিলোমিটার। টাকা ছাড় বন্ধ হওয়ার পর সংশোধন ও ধাপে ধাপে কাজ করতে গিয়ে সর্বশেষ সড়কটির নির্মাণ ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৮৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা। ১৬ বছরে ১৪ গুণ ব্যয় বাড়ানোর পরও এখনো ৬৫০ মিটার অংশের কাজ শুরু হয়নি।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, সাড়ে চার কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ৬০ ফুট প্রস্থ রেখে নকশা অনুমোদনের পর জমি অধিগ্রহণ, মাটি কাটা, কার্পেটিংসহ সড়কটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ১৩ কোটি ৭০ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। ২০০৫ সালের ২ মে পরিকল্পনা কমিশন থেকে প্রকল্পটি অনুমোদনের পর দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া শেষ হয়। একই সঙ্গে হাসপাতালের রাস্তার জন্য ১.১২ হেক্টর জমি অধিগ্রহণও করা হয়। পরে রাস্তার দৈর্ঘ্য সাড়ে চার থেকে কমিয়ে আড়াই কিলোমিটার করা হয়। নানা জটিলতায় ২০০৬ সালে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৭ সাল পর্যন্ত কাজটি বন্ধ থাকে। আড়াই কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের এই প্রকল্পের মেয়াদ তিন বছর ধরা হলেও পরবর্তী ১২ বছরে কাজ হয় মাত্র ৮০০ মিটার।

পরিকল্পনা কমিশন ও সওজ সূত্রে জানা যায়, সড়কটি ২০১৭ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৯ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের কথা ছিল। অবশিষ্ট অংশ নির্মাণে খরচ ধরা হয় ১০৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। এই প্রকল্প পুনরায় ২০১৮ সালের ২৩ জানুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পায়। যার কারণে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে কাজ শেষ করা যায়নি। পরে প্রকল্প সংশোধন ছাড়াই তিন দফায় সময় বাড়ানো হয়। প্রথমবার ২০২০ সালের জুন, দ্বিতীয়বার ২০২১ সালের জুন এবং তৃতীয়বার ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এখন ২০২১ সালের শেষে এসে দেখা যাচ্ছে প্রকল্পের ৬৫০ মিটার অংশের কাজ পুরোটা বাকি রয়েছে। সেখানে রাস্তা সম্প্রসারণে প্রাথমিক কাজটিও শুরু করা হয়নি। ঘরবাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনাও রয়েছে আগের মতো।

তবে ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পেছনে সওজ ভূমি অধিগ্রহণকে অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরছে। সওজ সূত্র জানায়, প্রস্তাবনায় ২.৫৭ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ বাবদ ৮১ কোটি ৫১ লাখ টাকা নির্ধারণ করা ছিল। পরে নতুন ভূমি অধিগ্রহণ নীতিমালা অনুযায়ী ভূমি অধিগ্রহণের খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ বেড়েছে প্রায় ৮০ কোটি টাকা।

শজিমেক হাসপাতালের উপপরিচালক আব্দুল ওয়াদুদ জানান, শহর থেকে হাসপাতালটি দূরে হওয়ায় জরুরি প্রয়োজনে চিকিৎসকরা তাড়াতাড়ি হাসপাতালে আসতে পারেন না। এই সড়ক নির্মাণ শেষ হলে সাতমাথা থেকে যাতায়াতে সময় এবং ভাড়া দুটোই বাঁচবে।

প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্যসচিব মামুন আল-রশীদ বলেন, সড়ক প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরি হওয়ার অন্যতম কারণ ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া। অর্থাৎ প্রকল্প অনুমোদনের পর সরকার অধিগ্রহণ নীতিমালা সংশোধন করে তিন গুণ দাম দেওয়ার নিয়ম চালু করে। এ জন্য প্রকল্পটি সংশোধন না করা পর্যন্ত ভূমি অধিগ্রহণে টাকা পাওয়া যাচ্ছিল না। তাই বাস্তবায়নও করা যায়নি। এ ছাড়া নতুন করে একটি রাস্তা তৈরি করতে হলে এখন ব্যয় বেড়ে যাবে, এটাই স্বাভাবিক।

সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান জানান, অর্থ ছাড় স্থগিতের কারণে আবারও দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছে। অধিগ্রহণ, নির্মাণসহ এখনো ৯৯ কোটি টাকা পাওয়া যায়নি। এটির প্রস্তাবনা জমা দেওয়া রয়েছে। একনেকের বৈঠকে বাকি অর্থ ছাড় করা হলে কাজ শুরু করা যাবে।



সাতদিনের সেরা