kalerkantho

সোমবার । ৩ মাঘ ১৪২৮। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

২১ মাস ধরে বন্ধ রমনা ট্রেন

১৯৬৪ সাল থেকে ট্রেনটি পার্বতীপুর-রমনা ও রমনা-তিস্তা রুটে চলাচল করছিল

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি   

২ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দীর্ঘ ২১ মাস ধরে চলছে না রমনা ট্রেন। ফলে চরম বিপাকে রয়েছে কুড়িগ্রামের বিভিন্ন পেশাজীবীসহ সাধারণ মানুষ। রমনা ট্রেনকে ঘিরে এ অঞ্চলের হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা নির্বাহ হতো। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে ট্রেন চলাচল না হওয়ায় তাঁদের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। তবে ট্রেনটি ফের চালু না করার পেছনে সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের চরম উদাসীনতা রয়েছে বলে মনে করছেন এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্যপীড়িত উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে রমনা ট্রেনটি চালু না করায় এখানকার জনগণের সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৪ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ৪২২ নম্বর লোকাল রমনা ট্রেনটি পার্বতীপুর-রমনা ও রমনা-তিস্তা রুটে নিয়মিত চলাচল শুরু করে। এই ট্রেনকে ঘিরে নদীভাঙন কবলিত উলিপুর-চিলমারী উপজেলার মানুষজন তাঁদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাইরের জেলায় ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করত। এ ছাড়া স্থানীয় ফড়িয়া-পাইকাররা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নানা ধরনের পণ্য আমদানি করতেন। কিন্তু দেশে করোনার প্রকোপ বাড়ায় অন্যান্য জেলার মতো রমনা ট্রেনটিও চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও রমনা ট্রেনটি চালু করেনি কর্তৃপক্ষ। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়ে রেলনির্ভর সাধারণ যাত্রী, ফেরিওয়ালা, হকার ও ট্রেনকে ঘিরে খেটে খাওয়া মানুষজন। এ ছাড়া ট্রেন চলাচল না হওয়ায় চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা।

এদিকে কুড়িগ্রাম থেকে রমনা স্টেশনের দূরুত্ব ২৮ কিলোমিটার। এই রেলপথে চারটি স্টেশন রয়েছে। দীর্ঘদিন এ এলাকায় ট্রেন না আসায় সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই স্টেশনগুলোতে মাদকসেবীদের আনাগোনা শুরু হয়।

একসময় উলিপুর রেলস্টেশনে ব্যাপক জনসমাগম থাকলেও বর্তমানে সুনসান নীরবতা। রেলযাত্রীদের বসার বেঞ্চে কয়েকজন স্থানীয় লোককে বসে থাকতে দেখা যায়। এ সময় তাঁদের সঙ্গে কথা হলে তাঁরা বলেন, ‘করোনার পর থেকে রমনা ট্রেন চলাচল বন্ধ। গত ১২ নভেম্বর রেলমন্ত্রী স্টেশন পরিদর্শন করে গেলেন। আমাদের ধারণা, এবার মনে হয় ট্রেন চলাচল শুরু করবে। কিন্তু ট্রেন তো চলছে না। দ্রুত ট্রেনটি চালু করলে এ এলাকার মানুষ খুবই উপকৃত হতো।’

স্টেশনের কুলির সর্দার শামসুল আলম বলেন, ‘পরিবার-পরিজন নিয়ে অতি কষ্টে দিনাতিপাত করছি।’

মুদি দোকানি ছালেহা বেগম বলেন, ‘ট্রেন আসে না, বিক্রিও নেই।’

উলিপুর রেলস্টেশনের অফিস সহায়ক সবুজ মিয়া বলেন, ট্রেন চলাচল বন্ধ, কাজও নেই।

রেল-নৌ যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির প্রধান সমন্বয়ক নাহিদ হাসান বলেন, রমনা রেলস্টেশনের ওপর চিলমারীসহ রৌমারী-রাজীবপুর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্ভরশীল।

লালমনিরহাট রেলওয়ের বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘আশা করি, দ্রুত রমনা ট্রেনটি চালু হবে।’



সাতদিনের সেরা