kalerkantho

সোমবার । ৩ মাঘ ১৪২৮। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

হাসপাতালের দরপত্র ছিনতাই

বোয়ালখালীতে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেলেন দুই যুবলীগ নেতা

বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

২ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হাসপাতালের দরপত্র ছিনতাই

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে মেডিক্যাল সার্জিক্যাল রি-এজেন্ট ও ওষুধ সরবরাহের দরপত্র ছিনতাইয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল বুধবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দুই যুবলীগ নেতাকে আটক করে নিয়ে গেলেও পরে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দিয়েছে।

মেসার্স শাহিন ফার্মেসির মালিক হাসান মুনসুর শাহিন এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। আটক ব্যক্তিরা হলেন উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. সায়েম (৩৫) ও পৌর যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক মো. দেলোয়ার হোসেন (৪০)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল সার্জিক্যাল রি-এজেন্ট, রোগীদের ওষুধ, বিছানা ও আসবাবপত্র সরবরাহে প্রায় ৩০ লাখ টাকার দরপত্র ডাকা হয়। দরপত্র জমা দেওয়ার দিন ছিল গতকাল। ৬৬ জন ঠিকাদার তিন হাজার ১০০ টাকা দরে দরপত্র কেনেন। এর বিপরীতে ৩৪টি দরপত্র জমা হয়।

গতকাল সকালে দরপত্র জমা দিতে গেলে বাধার মুখে পড়েন বেশ কয়েকজন ঠিকাদার। এর মধ্যে মেসার্স শাহিন ফার্মেসির বিপণন ব্যবস্থাপক মো. সাদমানকে (৩৪) ধরে হাসপাতালের পেছনে নিয়ে যায় যুবলীগের নেতাকর্মীরা। তাঁর কাছে থাকা দরপত্র ও পে-অর্ডারের চেক ছিনিয়ে নেয় তারা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সায়েম ও দেলোয়ারকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

হাসান মুনছুর শাহিন জানান, সকালে তাঁরা দরপত্র জমা দিতে গেলে সায়েমের নেতৃত্বে ১০-১২ জন নেতাকর্মী হাসপাতালের সামনে তাঁদের গতিরোধ করে। ব্যবস্থাপক সাদমানকে ধরে নিয়ে যায়। তারা তাঁকে হাসপাতালের পেছনে নিয়ে গিয়ে মারধর করে কাগজপত্র ও চেক ছিনিয়ে নিয়ে আটকে রাখে। এ সময় উপস্থিত থানার উপপরিদর্শক দিদারের সহযোগিতা চাইলে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে ৯৯৯-এ কল দিয়ে সহযোগিতা চাওয়া হলে অতিরিক্ত পুলিশ এসে দুই যুবলীগ নেতাকে আটক করে নিয়ে যায়। দরপত্র জমা দেওয়ার সময় পার হয়ে গেলে সায়েম পে-অর্ডারের কপি ফেরত দেন। শাহিন বলেন, ‘আগে এ দরপত্রগুলো জেলা সিভিল সার্জনের আওতায় ছিল। এখন উপজেলায় নিয়ে যাওয়ায় ঝামেলা বেড়ে গেছে।’

অভিযুক্ত দুই যুবলীগ নেতা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেন এবং তাঁদের আটকের বিষয়টিও অস্বীকার করেন।

উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আবদুল মান্নানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘আজকের ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। ঠিকাদারের লিখিত অভিযোগটি ঊর্ধ্বতনদের কাছে পাঠানো হয়েছে।’

বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবদুল করিম বলেন, ‘গণ্ডগোলের খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী দুজনকে আটক করা হয়। পরে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’



সাতদিনের সেরা