kalerkantho

শুক্রবার । ৭ মাঘ ১৪২৮। ২১ জানুয়ারি ২০২২। ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

শীতের রোগী ১৩০০

পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি   

১ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শীতের রোগী ১৩০০

রংপুরে মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত অনুভূত হচ্ছে হাড় কাঁপানো শীত। বস্ত্রের অভাবে নিম্ন আয়ের মানুষ শীত তাড়াতে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুনের তাপ পোহায়। এই তাপ পোহাতে গিয়ে গত এক সপ্তাহে অগ্নিদগ্ধ ১২ জন রংপুর মেডিক্যাল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি হয়েছে।

রমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিট সূত্রে জানা গেছে, শীতের তীব্রতা বাড়ায় আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধের ঘটনা বাড়ছে।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন ১২ জনের মধ্যে সাতজন শিশু। তাদের শরীরের ৩০-৪০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাদের বয়স ১৫ বছরের নিচে। গত বছর শীত মৌসুমে আগুনের উত্তাপ নিতে গিয়ে দগ্ধ হয়ে মারা গেছে ১৭ জন।

এ বিষয়ে রমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান ডা. আব্দুল হামিদ পলাশ জানান, আগুন পোহাতে গিয়ে অসাবধানতায় তারা দগ্ধ হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। শীত নিবারণে আগুন পোহাতে গিয়ে দগ্ধের ঘটনা থেকে বাঁচতে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।

এদিকে ঠাণ্ডার তীব্রতা বাড়ার কারণে শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এর মধ্যে সর্দি-কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া বেশি। এসব রোগে আক্রান্ত হয়ে গত এক সপ্তাহে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এক হাজার ৩০০ রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে বৃদ্ধ ও শিশুর সংখ্যা বেশি। শহর থেকে একটু দূরে গ্রামে থাকা ছিন্নমূল, অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের শিশু ও বৃদ্ধদের অবস্থা নাকাল।

আগাম শীতের প্রকোপ মোকাবেলায় প্রস্তুতি না থাকায় অনেকে কষ্টে আছে। অন্যদিকে শীতের কারণে শহরের অভিজাত বিপণিবিতান থেকে শুরু করে ফুটপাতের গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে বাড়ছে শীতার্ত মানুষের ভিড়।

কাউনিয়া উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আকবর আলী বলেন, ‘হামরা গরিব মানুষ, শীতের কাপড় কোনটে পামো? সন্ধ্যা হইলে গাও কাঁপে। আগুন তোপা ছাড়া উপায় নাই। ’

পীরগাছা উপজেলার শিবদেব চরের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, চরাঞ্চলে শীতের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। কুয়াশার পাশাপাশি হিমেল বাতাসে কাহিল হয়ে পড়েছে অনেকে। শীতবস্ত্রের অভাবে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে তারা।

রমেক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের চিকিৎসক (সিনিয়র কনসালট্যান্ট) এস এম নুরুন্নবী বলেন, ‘রংপুর অঞ্চলে শীতের প্রকোপ বেশি। তাই শীতকালে বিভিন্ন রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যায়। শীতজনিত রোগ প্রতিরোধে শিশুদের চিকিৎসার পাশাপাশি গরম কাপড় ও উষ্ণতা জরুরি। ’

রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ডিসেম্বর থেকে শুরু করে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত উত্তরাঞ্চলের তাপমাত্রা কমে কয়েকটি শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে। এতে রংপুরসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে বাড়বে শীতের তীব্রতা।

এ ছাড়া মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে।



সাতদিনের সেরা