kalerkantho

শুক্রবার । ৭ মাঘ ১৪২৮। ২১ জানুয়ারি ২০২২। ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

মাদারীপুরে ভাটায় কাঠ কাটতে করাতকল

ইটভাটাগুলোতে কাঠ পোড়ানো হয়। এ জন্য বেপারী ব্রিকসে বসানো হয়েছে করাতকল

মাদারীপুর সংবাদদাতা   

১ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মাদারীপুরে ভাটায় কাঠ কাটতে করাতকল

মাদারীপুরের ইটভাটাগুলোতে কাঠ পোড়ানো হয়। এ জন্য একটি ভাটায় বসানো হয়েছে করাতকলও। পাশাপাশি ফসলি জমির মাটি ব্যবহার করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কাজ চললেও প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি সরেজমিন দেখা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার জাজিরায় কয়েক বছর আগে গড়ে উঠেছে মেসার্স বেপারী ব্রিকস। জ্বালানি হিসেবে কয়লার ব্যবহার করার কথা থাকলেও সেখানে ভাটার ভেতর করাতকল বসিয়ে পোড়ানো হয় কাঠ ও গাছপালা। এ ছাড়া জেএসবি, এমএমবি, এমআরকে ব্রিকসে দেদারছে কাঠ পোড়ানো হয়।

এসব ভাটার বেশির ভাগই নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। ঘনবসতির তিন কিলোমিটারের মধ্যে ভাটা নির্মাণ নিষিদ্ধ থাকলেও মানছে না কেউ। ভাটার মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ায় মামলা ও হামলার ভয়ে মুখ খুলতে চায় না এলাকাবাসী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, একাধিকবার জেলা, উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিলেও কোনো লাভ হয়নি। প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বছরের পর বছর ধরে ভাটা চলছে। প্রশাসন থেকে শুধু আশ্বাস পাওয়া যায়। মাঝেমধ্যে লোক দেখানো অভিযান করে, পরে আবারও ভাটাগুলোতে শুরু হয় তাদের কার্যক্রম। এতে অনেকে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়।

মাদারীপুর পরিবেশ উন্নয়ন কমিটির আহ্বায়ক ড. বশির আহম্মদ বলেন, ‘মূলত ভাটা মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ায় প্রশাসন তাদের কাছে যেতে চায় না। গেলেও দু-একটি ছোটখাটো অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করে ছেড়ে দেয়। এতে আবারও একই কার্যক্রম করে ভাটার মালিকরা। এ ছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া বেশ কিছু ভাটা প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে কাঠ ও গাছপালা পোড়ায়। ’

মাদারীপুরের স্থানীয় পরিবেশভিত্তিক সংগঠন ফ্রেন্ডস অব নেচারের নির্বাহী পরিচালক রাজন মাহমুদ বলেন, ‘মাদারীপুরে পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো অফিস না থাকায় জেলার ছোটবড় মিলিয়ে অর্ধশত ভাটা নিয়ন্ত্রণ করে জেলা প্রশাসন। ’

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন বলেন, ‘শিগগিরই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ভাটাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ইটভাটায় কাঠ পোড়ানোর সুযোগ দেওয়া হবে না। ’



সাতদিনের সেরা