kalerkantho

সোমবার । ৩ মাঘ ১৪২৮। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

বাঁশ বিক্রির টাকা বনকর্মীর পকেটে

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি   

৩০ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বাঁশ বিক্রির টাকা বনকর্মীর পকেটে

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর, রাজকান্দি ও কুরমা বনবিট থেকে প্রতিদিন শত শত বাঁশ কাটা হচ্ছে। পাহাড় থেকে কেটে আনা বাঁশের আঁটিপ্রতি ৩০ থেকে ৫০ টাকা আদায় করেন বনকর্মীরা। ফলে সরকার লাখ লাখ টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর ধরে রাজকান্দি রেঞ্জের আওতায় থাকা পাহাড়ি বনের বাঁশ ইজারা হচ্ছে না। এ কারণে প্রচুর বাঁশ জন্মেছে। আর এই সুযোগে রাজকান্দি রেঞ্জের আদমপুর ও কুরমা বিটের কর্মকর্তার সহযোগিতায় নিয়মিত মুলিবাঁশ কাটা হচ্ছে। দিনের বেলায় কিছু চিহ্নিত লোক পাহাড়ি বন থেকে মুলিবাঁশ কেটে ১০-১২টি একত্রে আঁটি বেঁধে কাঁধে করে নিয়ে আসেন। পরে সেগুলো স্থানীয় বাজার অথবা রাতে গাড়ি দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছানো হয়। বেশি পাচার হয় আদমপুর বিটে। ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক একসঙ্গে সকালে বনে ঢুকে শত শত মুলিবাঁশ আঁটি বেঁধে কেটে আনেন। প্রত্যেক শ্রমিক কাঁধে করে ১২-১৫টি মুলিবাঁশের একেকটি আঁটি সমতলে নিয়ে আসেন। আঁটিপ্রতি বনবিট কর্মকর্তাকে ৩০ থেকে ৫০ টাকা হারে দিতে হয়।

সম্প্রতি সরেজমিন দেখা যায়, কালিঞ্জীর রাস্তা দিয়ে বাঁশের আঁটি নিয়ে শ্রমিকরা আদমপুর বিট দপ্তরের সামনে দিয়ে নিয়ে আসেন। সেখানে চালা একটি দোকানে বসে স্থানীয় এক ব্যক্তি বন বিভাগের পক্ষে আঁটিপ্রতি টাকা নিয়ে থাকেন। আর ওই শ্রমিকদের দিনের মজুরি ২০০-৩০০ টাকা দিয়ে এলাকার প্রভাবশালীরা বাঁশগুলো কিনে নেন। পরে এগুলো নির্দিষ্ট স্থানে এনে স্তূপ করে রাখা হয়। এ ছাড়া সন্ধ্যার পর পাচারকারীরা গাড়িতে জেলার বিভিন্ন স্থানে পাঠান। এভাবে গাছও কেটে পাচার করা হয়। কুরমা বিটে মুলিবাঁশ কাটে আরেকটি চক্র।

এ বিষয়ে আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন বলেন, ‘রাজকান্দি পাহাড় ইজারা না থাকায় সরকার হাজার হাজার টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’

কুরমা বিট কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বাঁশ পাচারের অভিযোগ অস্বীকার করেন।

আদমপুর বিট কর্মকর্তা হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘কোনো টাকা নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’

রাজকান্দি রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক নাজমুল আলম বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে দেখব।’



সাতদিনের সেরা