kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ধানক্ষেতে ড্রাম চিমনির ভাটা

আমতলীতে প্রতিবেশীর জমি দখল করে ইটভাটা নির্মাণ চলছে
ইট পোড়ানোর জন্য ভাটার পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে বনের কাঠ

বরগুনা প্রতিনিধি   

২৮ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ধানক্ষেতে ড্রাম চিমনির ভাটা

বরগুনার আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নে রায়বালা গ্রামে কৃষিজমিতে নির্মাণ করা হচ্ছে নিষিদ্ধ ড্রাম চিমনির ইটভাটা। ছবি : কালের কণ্ঠ

বরগুনার আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নে রায়বালা গ্রামে দুই ফসলি জমিতে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই নিষিদ্ধ ড্রাম চিমনির ইটভাটা গড়ে তোলা হচ্ছে। ওই জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব থাকায় আদালত ভাটা নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও ভাটার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয় প্রভাবশালী মো. নুরুজ্জামান। সেখানে কিছুদিনের মধ্যেই শুরু হবে ইট পোড়ানোর কাজ।

বিজ্ঞাপন

এ জন্য ভাটার পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে বন থেকে সংগ্রহ করা কাঠ।

অথচ ইটভাটা স্থাপন ও ইট প্রস্তুত আইন অনুসারে, জেলা প্রশাসকের অনুমতি বা লাইসেন্স ছাড়া কোনো ব্যক্তি ইটভাটা স্থাপন কিংবা ইট প্রস্তুত করতে পারবেন না। যদি কোনো ব্যক্তি আইন ভেঙে ইট প্রস্তুত বা ইটভাটা স্থাপন করেন তাহলে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দুই-ই হতে পারে। তা ছাড়া ভাটায় ইট পোড়ানোর কাজে জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার করা যাবে না। ড্রাম চিমনিও অনুমোদনযোগ্য নয়। আইনে ড্রাম চিমনির পরিবর্তে জিগজ্যাগ বা উন্নত প্রযুক্তির চিমনি ব্যবহার করে ভাটা চালানোর নির্দেশনা রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের রায়বালা গ্রামে ১১ একর কৃষিজমির ওপর ড্রাম চিমনির ইটভাটা গড়ে তোলা হচ্ছে। ইট পোড়ানোর জন্য ভাটার পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে বনের কাঠ।

স্থানীয় বাসিন্দা ছত্তার সিকদার বলেন, ইটভাটাটি কোনো ধরনের প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই গড়ে তোলা হচ্ছে। এটি চালু হলে এই এলাকার ধানি জমিতে বিপর্যয় দেখা দেবে। একই সঙ্গে ভাটার কালো ধোঁয়ায় প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট হবে। এতে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হবে এলাকার লোকজন। তাই ভাটার নির্মাণকাজ বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছে এলাকাবাসী।

রায়বালা গ্রামের আবুল হোসেন চৌকিদার বলেন, ‘আল্লাহর দান ব্রিকসের মালিক নুরুজ্জামান আমাদের ছয় একর জমি দখল করে নিয়েছেন। আমরা মামলা করলে আদালত ইটভাটা নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা দেন। কিন্তু তিনি নিষেধাজ্ঞা না মেনে আমাদের জমিতে ভাটা গড়ে তুলছেন। আমরা অসহায় হয়ে সবার দ্বারে দ্বারে ঘুরেও এর কোনো সমাধান পাচ্ছি না। ’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আল্লাহর দান ব্রিকসের মালিক মো. নুরুজ্জামান বলেন, ‘ইটভাটা নির্মাণের জন্য এখন পর্যন্ত কোনো অনুমতিপত্র পাইনি। তবে অনুমতিপত্রের জন্য আমরা চেষ্টা করছি। আশা করি শিগগিরই প্রশাসন আমাদের অনুমতি দেবে। ’

আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, ‘কৃষিজমিতে নতুন ইটভাটা নির্মাণ করার বিষয়টি আমার জানা নেই। ’ পরিবেশ অধিদপ্তর বরিশাল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক তোতা মিয়া বলেন, ‘আমতলীতে নতুন ইটভাটা নির্মাণ করার জন্য কোনো ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। তা ছাড়া আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তির ইটভাটা ছাড়া অন্য সব ভাটা অবৈধ। পরিবেশ আইন অনুযায়ী, কোনোভাবেই ড্রাম চিমনির ভাটা করতে দেওয়া হবে না। ’

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ বিন রশিদ বলেন, যদি কেউ অনুমতি ছাড়া ইটভাটা নির্মাণ করেন তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বরগুনা জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমতলী থেকে কেউ আমার কাছে ইটভাটা নির্মাণে অনুমতি নেয়নি। তা ছাড়া ড্রাম চিমনির ইটভাটা নির্মাণ সম্পূর্ণ অবৈধ। এ ধরনের ইটভাটা যারা নির্মাণ করবে, তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে। ’



সাতদিনের সেরা