kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

খালেদার আন্দোলনেও বিভক্ত খুলনা বিএনপি

কৌশিক দে, খুলনা   

২৬ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খালেদার আন্দোলনেও বিভক্ত খুলনা বিএনপি

খুলনা নগর ও জেলা বিএনপি দুটি করে চার ভাগে বিভক্ত। এই কোন্দল এতটা গভীর যে খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার দাবির চলমান আন্দোলনেও এক হতে পারেননি নেতারা। ফলে দুই অংশের সকাল-বিকেল দুই দফার কর্মসূচিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘাত ঘটেছে। পুলিশও দুটি মামলা করে শতাধিক নেতাকে আসামি করেছে।

মহানগর

নেতারা জানান, ২০০৯ সালের ২৫ নভেম্বর খুলনার সার্কিট হাউস ময়দানে মহানগর বিএনপির সর্বশেষ সম্মেলন হয়। তখন নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে সভাপতি, মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনিকে সাধারণ সম্পাদক ও ফকরুল আলমকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়। ২০১০ সালের ৮ ডিসেম্বর ১৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি এবং ১৩ সদস্যের উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর সম্মেলনের তারিখ ছিল ২০১৬ সালের ৫ মার্চ। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের কারণে সম্মেলন বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৬ সালের ৩ ডিসেম্বর সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিলে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপে সম্মেলন স্থগিত হয়ে যায়। ২০০৯ সালে গঠিত নগর কমিটি এখনো বহাল। নগর বিএনপির পাশাপাশি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে পাঁচ থানা, ৩১টি ওয়ার্ড ও তিনটি ইউনিয়নের কমিটিও।

নগর কমিটির এমন অবস্থায় দুটি ধারা সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, নগর সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জুর নেতৃত্বে এক অংশে রয়েছেন নগর সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক আসাদুজ্জামান মুরাদ, সদর থানার নেতা আরিফুজ্জামান অপু ও ইউসুফ হারুন মজনু। অন্য পক্ষে নগর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজার নেতৃত্বে রয়েছেন যুববিষয়ক সম্পাদক ও যুবদলের সাবেক সভাপতি শফিকুল আলম তুহিন, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক আজিজুল হাসান দুলু, কেন্দ্রীয় যুবদলের সহসভাপতি ও মহানগর যুবদলের সভাপতি মাহবুব হাসান পিয়ারু, মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক আজিজা খানম এলিজা, মহানগর সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মাসুদ পারভেজ বাবু প্রমুখ।

এ বিষয়ে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক আজিজুল হাসান দুলু বলেন, ‘নগর কমিটির পদধারী অনেক নেতা মাঠে নেই।’

বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও নগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘যাঁরা আলাদা কর্মসূচি পালন করছেন, তাঁদের একসঙ্গে কাজ করার আহবান জানিয়েছি।’

জেলা

দলীয় সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি এস এম শফিকুল আলম মনাকে সভাপতি ও আমীর এজাজ খানকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা বিএনপির ২৯ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। একই বছরের ৬ ডিসেম্বর জেলা বিএনপির ১৮১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্র। এ ছাড়া ৩৮ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়। ৯টি উপজেলার মধ্যে সাতটির এবং দুটি পৌরসভার আহ্বায়ক কমিটি রয়েছে। আর তেরখাদা ও রূপসায় রয়েছে পাঁচ সদস্যের আংশিক কমিটি।

নেতারা জানান, জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক একাংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অন্য অংশের নেতৃত্বে রয়েছেন জ্যেষ্ঠ সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পীসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সাবেক নেতারা।

এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী অভিযোগ করে বলেন, ‘অর্থ বাণিজ্যে পদ পাওয়াদের বয়কট করেছি।’

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমীর এজাজ খান বলেন, ‘দ্রুত এ সমস্যা কেটে যাবে।’



সাতদিনের সেরা