kalerkantho

শনিবার । ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৪ ডিসেম্বর ২০২১। ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৩

ডায়রিয়ার শয্যা ৩০, রোগী শতাধিক

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

২৫ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ডায়রিয়ার শয্যা ৩০, রোগী শতাধিক

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মেঝেতে থাকতে হচ্ছে ডায়রিয়া রোগীদের। গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। গত কয়েক দিনে শতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশু ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। এর মধ্যে শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। রোগীর চাপ বাড়ায় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।

গতকাল বুধবার দুপুরে সরেজমিনে হাসপাতালের চতুর্থ তলায় গিয়ে দেখা যায়, ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ভেতর ও বাইরে শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। শয্যায় স্থান সংকুলান না হওয়ায় বেশির ভাগই মেঝেতে বিছানা করে নিয়েছে। রোগীদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যাই বেশি।

শিশু রাকিবের মা জেলার সরাইল উপজেলার বাড়িউড়ার রীমা আক্তার জানান, তাঁর সন্তান সাত দিন ধরে আক্রান্ত। এখনো অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি। বেসরকারি হাসপাতাল থেকে সরকারি এ হাসপাতালে ভালো চিকিৎসার জন্য আনলেও চার দিনেও শয্যা পাননি।

পাতলা পায়খানা ও বমি করতে থাকা জেলা সদরের উলচাপাড়া এলাকার শিশু হাসানকে (১) গতকাল বুধবার দুপুরে হাসপাতালে নিয়ে আসেন মাসহ স্বজনরা। কিন্তু শয্যা না পেয়ে ডায়রিয়া ওয়ার্ডের বাইরেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। হাসানের মা রোকসানা আক্তার জানান, চিপস খাওয়ার পরপরই তাঁর ছেলের সমস্যা শুরু হয়।

রাকিব ও হাসানের মতো আরো অন্তত ৭০ জনের মতো শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। এ ছাড়া চিকিৎসা নিচ্ছে ৩০ জন বয়স্ক রোগী। অথচ হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীর জন্য বরাদ্দ মাত্র ৩০ শয্যা। ফলে ডায়রিয়া ওয়ার্ডের মেঝে ও বাইরেও রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিতে হচ্ছে।

খাতায় রোগীদের নাম লিখতে থাকা এক নার্স জানান, দুপুর ১২টার পর থেকেই এখানে অন্তত ৫০ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। কয়েক দিন ধরেই ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য কয়েকজনকে ঢাকায়ও পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

শিশু সাঈমের মা জরিনা আখতার জানান, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন।

সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, এক সপ্তাহ ধরেই ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তবে পর্যাপ্ত স্যালাইন সরবরাহসহ সব ধরনের সেবার জন্য তাঁরা প্রস্তুত বলে জানান।



সাতদিনের সেরা