kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

সারের বস্তায় ৭০০ টাকা বাড়তি আদায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী ও দুর্গাপুর প্রতিনিধি   

২৫ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সারের বস্তায় ৭০০ টাকা বাড়তি আদায়

কৃষিনির্ভর রাজশাহীতে সারসংকটে বাজার নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। কৃষকদের কাছ থেকে ইচ্ছামতো দাম আদায় করছেন ডিলাররা। বর্তমানে সারের বস্তাপ্রতি দাম বেড়েছে ২০০-৭০০ টাকা। ৭৫০ টাকার পটাশ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার টাকায়। এক হাজার ১০০ টাকা মূল্যের টিএসপি বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৫০০ টাকা থেকে এক হাজার ৬০০ টাকায়। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ইউরিয়া ৮০০ টাকার স্থলে বিক্রি হচ্ছে এক হাজার টাকায়। এতে করে এই রবি মৌসুমে আলুসহ অন্যান্য ফসল চাষ করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে কৃষকদের।

স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বিসিআইসি ও বিএডিসি সার ডিলাররা কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করছেন। ফলে অতিরিক্ত টাকা দিলেই মিলছে সার। কিন্তু ভাউচারে অতিরিক্ত মূল্য লেখা হচ্ছে না। ভাউচারের অতিরিক্ত দাম দিতে না চাইলে সারও দেওয়া হচ্ছে না কৃষকদের। এ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

তবে ডিলাররা কৃত্রিম সংকট মানতে নারাজ। তাঁরা বলছেন, চাহিদা মোতাবেক সার না পাওয়ায় রাজশাহীতে সারের সংকট তৈরি হয়েছে। বেশি দামে তাঁদের বিভিন্ন মাধ্যম থেকে সার কিনতে হচ্ছে। এর ওপর বেড়েছে পরিবহন খরচ। তার পরও সরকারের বেঁধে দেওয়া দরেই সার বিক্রি করছেন তাঁরা।

সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজশাহীসহ সারা দেশে বর্তমানে আলু, পেঁয়াজ, ভুট্টা, মসুর, সরিষা চাষের মৌসুম চলছে। এই মৌসুমে সবচেয়ে বেশি সারের প্রয়োজন হয়। আর তখনই দাম বেশি। এ কারণে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।

আবার রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় ইউনিয়ন পর্যায়ে সার বিক্রির জন্য ডিলার নিয়োগ দেওয়া হলেও বেশির ভাগ ডিলার সার বিক্রি করছেন উপজেলা সদরে বসে। ফলে সার পেতে কৃষকদের বাড়তি ভোগান্তিসহ পরিবহন খরচও বেড়ে যাচ্ছে।

পুঠিয়ার ভাল্লুকগাছী এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ডিলাররা গুদামে সার রেখে বলছেন, সার নেই। আবার সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা দিলে ঠিকই সার দেওয়া হচ্ছে। তবে বেশি দামে সার কেনার কোনো ভাউচার দিচ্ছেন না ডিলাররা।’

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কৃষক পর্যায়ে সরকার নির্ধারিত খুচরা মূল্য প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) টিএসপি এক হাজার ১০০ টাকা, এমওপি (মিউরেট অব পটাশ) ৭৫০ টাকা, ডিএপি (ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট) ৮০০ টাকা, ইউরিয়া ৮০০ টাকা দামে বিক্রি হওয়ার কথা। অথচ রাজশাহীর প্রতিটি উপজেলায় কৃষকদের কাছ থেকে বস্তাপ্রতি ২০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দাম আদায় করা হচ্ছে।

দুর্গাপুর বহরমপুর গ্রামের কৃষক আলামিন বলেন, ‘সার নিয়ে ব্যাপক সিন্ডিকেট চলছে। আমরা চাষিরা এমন সিন্ডিকেট বুঝি না। আমার চাই ন্যায্য মূল্যে সার পেতে।’ অন্যদিকে দুর্গাপুর উপজেলার বিসিআইসি ডিলার শিপন কুমার বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় কম পাওয়ায় বাড়তি টাকা দিয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে সার কিনে আনতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে খরচ পুষিয়ে নিতে একটু দাম বেশি নিতে হচ্ছে।’

অন্যদিকে তানোরে সারের জন্য দোকানের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও সার পাচ্ছেন না কৃষকরা। উপজেলার তালন্দ ইউনিয়নের বিসিআইসির ডিলার সুমন কুমার শীল পৌর এলাকায় বসে বিক্রি করছেন সার।

গত মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তানোর পৌর এলাকার একটি মাটির ঘরে সার বিক্রি করছেন তালন্দ ইউনিয়নের বিসিআইসির সার ডিলার সুমন কুমার শীল। সেখানে সার পেতে এক প্রকার লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন কৃষকরা।

কৃষক আকবর হোসেন বলেন, ‘চাহিদামতো সার চাইলেও দেওয়া হচ্ছে না। আবার টাকা বেশি দিলেই মিলছে সার।’ ডিলার সুমন কুমার শীল বলেন, ‘কারো কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম আদায় করা হচ্ছে না। সার প্রয়োজনমতো না পাওয়ায় কৃষকদের কিছুটা ভোগান্তি হচ্ছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামিমুল ইসলাম বলেন, ‘অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগ পেলে ঠিকই ব্যবস্থা নেওয়া হবে, কিন্তু এমন অভিযোগ আমরা পাইনি।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কে জে এম আব্দুল আওয়াল বলেন, ‘সারের তেমন সংকট নেই। পটাশের যেটুকু সংকট ছিল তা-ও এরই মধ্যে সমাধান হয়েছে। সম্প্রতি আমরা অতিরিক্ত এক হাজার টন সার বরাদ্দ পেয়েছি। ফলে আগামীতে কোনো ধরনের সংকট থাকবে না।’



সাতদিনের সেরা