kalerkantho

শনিবার । ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৪ ডিসেম্বর ২০২১। ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৩

কাঁঠালিয়া উপজেলার তিন ইউনিয়ন

৬০ হাজার মানুষের পানির কষ্ট

ঝালকাঠি প্রতিনিধি   

২৫ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৬০ হাজার মানুষের পানির কষ্ট

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার নেয়ামতপুরা গ্রামের পুকুরে থালাবাসন ধোয়ার কাজ করছেন এক নারী। ছবি : কালের কণ্ঠ

গভীর নলকূপ বসানো যায় না। তাই বাধ্য হয়ে বৃষ্টি, পুকুর ও ডোবার পানি পান করছে মানুষ। নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ করতে হচ্ছে নোনা পানিতে। ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার পাটিখালঘাটা, চেঁচরিরামপুর ও আমুয়া ইউনিয়নের ৬০ হাজার মানুষ বছরের পর বছর ধরে এই দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই তিনটি ইউনিয়ন বঙ্গোপসাগরের কাছাকাছি হওয়ায় নলকূপে লবণাক্ত পানি ওঠে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বরিশাল আঞ্চলিক ল্যাব একটি ইউনিয়নে পরীক্ষা চালিয়ে আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার পিপিএম পর্যন্ত লবণাক্ততা শনাক্ত করে। যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। এক হাজার থেকে এক হাজার ৫০০ পিপিএম পর্যন্ত লবণাক্ত পানি মানবদেহে সহনশীল। তাই স্থানীয় বাসিন্দারা বৃষ্টির মৌসুমে পানি ধরে রাখে বড় ট্যাংকে। সেই পানি শেষ হয়ে গেলে শুরু হয় সুপেয় পানির অভাব। দুর্গম এই এলাকায় অল্প আয়ের মানুষ বছরের পর বছর ধরে পুকুর ও ডোবার পানিতে ফিটকিরি অথবা ওষুধ দিয়ে পরিষ্কার করে পান করছে। যাদের সামর্থ্য নেই, তারা নোনা পানি দিয়ে রান্না, থালাবাসন ধোয়া ও গোসলের কাজ সারছে।

কাঁঠালিয়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী সাইফুর রহমান জানান, তিনটি ইউনিয়নে অগভীর নলকূপ রয়েছে ৯৬টি, এর মধ্যে অকেজো আটটি। আশির দশক থেকে এ পর্যন্ত সরকারিভাবে পুকুরপারে পানির শোধনাগার (পিএসএফ) স্থাপন করা হয়েছে ১৭২টি। এগুলোর প্রায় সবই অকেজো। পরে লবণাক্ত দূরীকরণ প্লান্ট স্থাপন করে চারটি, তাও নষ্টের পথে।

পাটিখালঘাটা ইউনিয়নের নেয়ামতপুরা গ্রামের শিক্ষিকা নুসরাত জাহান বলেন, ‘পুকুর ও ডোবার পানি ফিটকিরি অথবা বিশুদ্ধকরণ ওষুধ দিয়ে ব্যবহার করি। অনেক সময় এসব পানি নষ্টও হয়ে যায়। যাদের সামর্থ নেই, তারা নোংড়া পানিই ব্যবহার করে। ফলে পানিবাহিত রোগ-ব্যাধি লেগেই থাকে।’

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুর রশীদ মোল্লা বলেন, ‘আমি তিনবার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ছিলাম। আমার বয়স এখন আশির কোটায়। সারাজীবনই বৃষ্টির পানি অথবা পুকুরের পানি পান করেছি, প্রতিবেশীদেরও এটা করতে দেখেছি। গোসল ও রান্নার কাজও করতে হচ্ছে এই পানি দিয়ে।’

চেঁচরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদ বলেন, ‘সবাই আসলে এখনো বৃষ্টির পানি পান করছে, কেউ আবার পুকুর ও ডোবার পানির ওপরই নির্ভরশীল। এটা অত্যন্ত কষ্টদায়ক।’

পাটিখালঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শিশির দাস বলেন, ‘লবণাক্ত দূরীকরণ প্লান্ট সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি। এটা প্রতি ওয়ার্ডে দুটি করে স্থাপন করা হলে জনগণের পানির সমস্যা দূর হবে।’

কাঁঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুফল চন্দ্র গোলদার বলেন, ‘পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করার নতুন একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এটি প্রথমে কাঁঠালিয়া সদর ইউনিয়নে বসানো হবে। পর্যায়ক্রমে এখান থেকে পানি বিভিন্ন ইউনিয়নে সরবরাহ করা হবে। তবে এ পানি নিতে হলে গ্রাহকদের সামান্য বিল দিতে হবে।’



সাতদিনের সেরা