kalerkantho

শনিবার । ১৫ মাঘ ১৪২৮। ২৯ জানুয়ারি ২০২২। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ঘাটে ভিড়তে পারছে না ফেরি দুটি বিকল, বাড়ল সংকট

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথ

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি   

১৯ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঘাটে ভিড়তে পারছে না ফেরি দুটি বিকল, বাড়ল সংকট

গভীরতা না থাকায় ঘাটে ভিড়তে পারছে না ফেরি। তাই চলছে খনন। গতকাল রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায়। ছবি : কালের কণ্ঠ

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ফেরির সংকট তো কাটেইনি, উল্টো দুটি বিকল হয়ে গেছে। এর মধ্যে আবার এই নৌপথের উভয় প্রান্তে ঘাটে ভেড়ার চ্যানেলে নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে। এতে যেসব ফেরি সচল আছে, তা পন্টুনের অনেক পকেটে ভিড়তে পারছে না। ফলে সংকট আরো বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

সময়মতো ফেরি পার হতে না পেরে রাজধানীমুখী বিভিন্ন গাড়ির চাপ বাড়ছে দৌলতদিয়া ঘাটে। এতে যানজট লেগেই থাকছে। গতকাল বৃহস্পতিবারও সেখানে ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় আটকা পড়ে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ ছয় শতাধিক ভারী যানবাহন। ঘাটের জিরোপয়েন্ট থেকে দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দ ফিডমিল পর্যন্ত সাড়ে চার কিলোমিটার রাস্তায় গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।

বিআইডাব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সড়ক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ এই ঘাট দিয়ে প্রতি ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন ধরনের প্রায় সাত হাজার গাড়ি ফেরি পার হয়। ঘাট পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এই নৌপথে ছোট ফেরির পাশাপাশি কমপক্ষে ১২টি রো রো (বড়) ফেরি সার্বক্ষণিক সচল রাখা প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমান বহরে আছে আটটি রো রো (বড়) ফেরি। পাশাপাশি ছয়টি ইউটিলিটি ও তিনটি কে-টাইপ ফেরি থাকলেও সেগুলোর ধারণক্ষমতা অনেক কম। এর মধ্যে গত বুধবার ফরিদপুর নামের কে-টাইপ ফেরি বিকল হয়ে গেছে। এর তিন-চার দিন আগে কুমিল্লা নামে আরেকটি কে-টাইপ ফেরি বিকল হয়। পাটুরিয়ার ভাসমান কারখানা মধুমতিতে ওই ফেরি দুটির মেরামত কাজ চলছে। সচল থাকা অন্য ফেরিগুলো দিয়ে এখন কোনোরকমে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।

এদিকে প্রতিটি রো রো (বড়) ফেরি চলাচলের জন্য কমপক্ষে আট ফুট গভীরতা প্রয়োজন। কিন্তু প্রয়োজনীয় গভীরতা না থাকায় কয়েকটি পন্টুনের কিছুু পকেটে কোনো ফেরি ভিড়তে পারছে না। তা ছাড়া ডুবোচরের বালুর ঘর্ষণে ফেরির প্রপেলার ও বুশ ক্ষয়ে যাচ্ছে।

তবে পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিভিন্ন ঘাটের চ্যানেলে ড্রেজার দিয়ে খননকাজ চালাচ্ছেন বিআইডাব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগের কর্মীরা।

ঘাট সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে চলাচলকারী ফেরির সংখ্যা দিন দিন কমছে। অন্যদিকে রাজধানীমুখী অতিরিক্ত গাড়ির চাপ অব্যাহত থাকায় দৌলতদিয়া ঘাটে যানজট লেগেই থাকছে। ফেরি পার হতে ঘাটে এসে আটকে পড়ায় প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে বিভিন্ন গাড়ির যাত্রী, চালকসহ লাখো মানুষ।

বিআইডাব্লিউটিসির সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মো. শিহাব উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ফেরির সংকট কাটেনি। ফরিদপুর ও কুমিল্লা নামের দুটি কে-টাইপ ফেরি বিকল হয়ে পড়ায় এই নৌরুটে ফেরির সংকট আরো বেড়েছে। ’ ঘাট পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে জরুরিভিত্তিতে রো রো (বড়) ফেরির সংখ্যা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি জানান।



সাতদিনের সেরা