kalerkantho

শনিবার । ৮ মাঘ ১৪২৮। ২২ জানুয়ারি ২০২২। ১৮ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

গলাচিপায় ইভিএম মেশিন লুটের মামলা

পাঁচ শতাধিক পুরুষ গ্রাম ছাড়া, আতঙ্কে নারীরা

গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি   

১৭ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পটুয়াখালীর গলাচিপায় দ্বিতীয় ধাপে ইউপি নির্বাচনে ইভিএম মেশিন লুটের ঘটনায় মামলার পর গ্রামছাড়া প্রায় পাঁচ শতাধিক পুরুষ। এই সুযোগে গ্রামের তিনটি দোকান বন্ধ করে দিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন। অন্যদিকে পুরুষশূন্য বাড়িতে থাকা নারীদের বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন প্রতিপক্ষ বিজয়ী ইউপি সদস্য দাদন মিয়ার বাহিনী। এতে ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রামর্দ্দন এলাকার কাজীকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্র থেকে আটটি ইভিএম মেশিন লুট হয়। গত বৃহস্পতিবার রাতে ইভিএম মেশিনগুলো ওই ভোটকেন্দ্রের অদূরে একটি বাগান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গত ১২ নভেম্বর ২৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ৭০০-৮০০ জনের নামে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ গত সোমবার রাতে জালাল হাওলাদার, জাকির হাওলাদার ও জীবন হাওলাদার নামের তিন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে।

গ্রামর্দ্দন এলাকার বন্ধ থাকা দোকানের মালিক সেলিম খাঁর স্ত্রী শাহিনুর বেগম (৩২) বলেন, ‘দাদন মেম্বারের সমর্থক রুস্তুম মাস্টার দোকান খুলতে বাধা দিচ্ছে। দোকান খুললে পুলিশে ধরিয়ে দেবে বলে হুমকি দিচ্ছে। ’

শারীরিক প্রতিবন্ধী দিনমজুর আইয়ুব খাঁর স্ত্রী বিউটি বেগম (৪০) বলেন, ‘আমার স্বামী একজন প্রতিবন্ধী। ঠিকমতো হাঁটতে পারে না। এলাকার ৭০০-৮০০ মাইনসের নামে নাকি পুলিশ মামলা করছে। হেই ডরে আমার স্বামীও সবাইর লগে পলাইছে। ’

কৃষক শাহজালাল খাঁর স্ত্রী রাজিয়া বেগম (৩৫) বলেন, ‘আমার স্বামীও পুলিশের মামলার ভয়ে এলাকা ছাইড়া পলাইছে। বিজয়ী মেম্বার দাদন মিয়ার ভাই নজির মিয়া হুন্ডা লইয়া বাড়িতে আইয়া ডর দেহায়। খালি কয় পুলিশ আইছে, পুলিশ আইছে। ’

এ বিষয়ে জানার জন্য গ্রামর্দ্দন এলাকার রুস্তুম মাস্টারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে বিজয়ী মেম্বার দাদন মিয়ার ভাই নজরুল ইসলাম নজির বলেন, ‘গ্রামের কিছু লোকের সঙ্গে আমার লেনদেন আছে। এ কারণে গ্রামের লোকজনের কাছে যেতে হয়। আমার বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের লোকজন মিথ্যা কথা বলছে। আমি কাউকেই ভয় দেখাইনি। ’

এ ব্যাপারে পানপট্টি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদ্যোবিজয়ী সদস্য দাদন মিয়া বলেন, ‘আমি নিজেই ভয়ে আছি। আমার এন্টি গ্রুপ আমাকে হেয় করার জন্য এগুলো করছে। ’

গলাচিপা থানার ওসি শওকত আনোয়ার ইসলাম বলেন, ‘দোকান বন্ধ থাকলে খোলার ব্যবস্থা করা হবে। আর কেউ গ্রামে আতঙ্ক সৃষ্টি করার চেষ্টা করলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর জন্য ওই গ্রামে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ’



সাতদিনের সেরা