kalerkantho

শনিবার । ১৫ মাঘ ১৪২৮। ২৯ জানুয়ারি ২০২২। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ব্রহ্মপুত্র খনন নিয়ে প্রশ্ন

নিয়ামুল কবীর সজল, ময়মনসিংহ   

১১ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্রহ্মপুত্র খনন নিয়ে প্রশ্ন

ময়মনসিংহ শহরছোঁয়া ব্রহ্মপুত্র নদের পেটে কাচারীঘট এলাকায় চর জাগার দৃশ্য। ছবি : কালের কণ্ঠ

খনন করার পরও ময়মনসিংহ শহরছোঁয়া ব্রহ্মপুত্র নদের স্থানে স্থানে চর জেগে উঠেছে। কম গভীরতায় খনন এবং তীরে জমা বালু সরানোর ক্ষেত্রে গাফিলতিতে এমনটি হয়ে থাকতে পারে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ) সূত্র জানায়, ব্রহ্মপূত্র নদ খননের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ২০১৯ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে। প্রকল্প ব্যয় দুই হাজার ৭০০ কোটি টাকা।

বিজ্ঞাপন

এই টাকায় খনন হবে জামালপুর, ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জের পুরনো ব্রহ্মপুত্র নদের অংশ। এ অংশটুকু মোট ২২৭ কিলোমিটার। প্রকল্পের কাজ শেষ হবে ২০২৪ সালের জুনে। বিআইডাব্লিউটিএ নদ খননের কাজ বাস্তবায়ন করছে। কথা রয়েছে, কাজটি শেষ হলে এটি আন্তর্জাতিক নৌপথ হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, প্রকল্পের কাজ শুরু হয় প্রথম দিকে গফরগাঁও অংশে। এরপর ধীরে ধীরে নদের উজানে খননকাজ শুরু হয়। এরপর ময়মনসিংহ শহরছোঁয়া নদের অংশে খননকাজ চলে। বছরখানেক আগে যখন বড় আকারের ড্রেজার আসে, তা দেখে শহরবাসী উচ্ছ্বসিত ছিল। এখনো শহরছোঁয়া অংশে খননকাজ চলছে। প্রায় মরে যাওয়া নদে খননকাজ দেখে শহরবাসী আবেগাপ্লুত হয়ে ওঠে। সবার ধারণা ছিল, এবার শুষ্ক মৌসুমে নদে পানি থাকবে। কিন্তু শুষ্ক মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নদের খনন হওয়া বেশ কিছু স্থানে চর জাগতে শুরু করেছে। নদের অন্যত্রও এমন দৃশ্য আছে কি না, এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নদ খননের দাবির বিষয়ে সোচ্চার সংগঠনগুলো চর জাগা নিয়ে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তাদের প্রশ্ন, এখনই যদি চর জাগে, তাহলে তিন-চার বছর পর কী হবে?

নদ খনন নিয়ে আন্দোলনকারীরা জানান, দুটি কারণে এমন চর জাগতে পারে।

প্রথমত, চর জাগা অংশ গভীরভাবে খনন করা হয়নি। আরেকটি কারণ, খননের পর তীরে স্তূপ করে রাখা বালু আবার ধীরে ধীরে নদে এসে মিশেছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নদের তীরের অনেক স্থানে উত্তোলন করা বালু থেকে গেছে। অনেক স্থানে এই কারণে নদটি সরুও হয়ে গেছে।

ব্রহ্মপুত্র সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘বৈজ্ঞানিকভাবে জরিপ করে এখানে খননকাজ হওয়া দরকার; কিন্তু সেটি হচ্ছে বলে মনে হয় না। দুর্নীতিমুক্ত এবং সঠিকভাবে

নদ খনন হোক, এটাই আমাদের দাবি। ’

ব্রহ্মপুত্র খনন প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী দিদার এ আলম বলেন, ‘শুষ্ক মৌসুমে নদটি (তলদেশ) প্রশস্ত হবে ৩০০ ফুট ও গভীর হবে ১০ ফুট। সেভাবেই খনন করা হচ্ছে। তবে নদের গতি-বৈচিত্র্যের কারণে কোথাও কোথাও চর পড়ছে। এটা আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। পরে সে অনুযায়ী খনন করা হবে। ’

বিআইডাব্লিউটিএর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ড্রেজিং প্রকল্পের পরিচালক রকিবুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ‘শত বছর পর নদটি খনন হচ্ছে। তাই প্রাকৃতিক কারণেও কিছু সমস্যা হচ্ছে। তবে চর জাগলে সেখানে আবারও খনন করা হবে। এ ছাড়া নদ খননের পরও কাজটির তদারকি চলবে। ’



সাতদিনের সেরা