kalerkantho

সোমবার । ১৪ মাঘ ১৪২৮। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

খাসজমিতে আওয়ামী লীগ কার্যালয় বানিয়ে ভাড়া

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সোহাগী ইউনিয়ন

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

১ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খাসজমিতে আওয়ামী লীগ কার্যালয় বানিয়ে ভাড়া

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সোহাগী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ঠিকাদারের নির্মাণসামগ্রী রাখা হয়েছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সোহাগী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে নেতাকর্মীরা যেতে পারেন না। খাসজমিতে কার্যালয়টি ভাড়ায় খাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে খোদ সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে। তিনি ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানও।

দলীয় সূত্র জানায়, সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সোহাগী রেলস্টেশন। এই স্টেশনের সামনে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়। এর পাশে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়। ছয় বছর ধরে প্লাস্টারবিহীন ইটের গাঁথুনি দেওয়া আধাপাকা ঘরটিকে সবাই জানে দলীয় কার্যালয়। কিছুদিন সাইনবোর্ড দেখা গেলেও কয়েক মাস আগে হঠাৎ উধাও হয়ে যায়। ভেতরে দেখা যায়, এক ঠিকাদারের বাজারের ড্রেন নির্মাণের সামগ্রী ও শ্রমিকদের থাকার ব্যবস্থা।

স্থানীয়রা জানায়, দুই পাশে দুটি দরজা থাকলেও কয়েক দিন আগে একটিকে ইট দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এরপর বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মালামাল রাখা হতো।

সোহাগী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আব্দুল মোতালিব জানান, প্রায় ২০ বছর আগে দলীয় কার্যালয়টি ছিল পরিষদের পশ্চিম পাশে একটি সুরম্য ঘরে। সেখানে আসবাব ছাড়াও একটি টেলিভশন ছিল। নেতাকর্মীরা নিয়মিত আসা-যাওয়া করতেন। অজ্ঞাত কারণে এটি বন্ধ করে দিয়ে ওই জায়গায় দুটি দোকান নির্মাণ করে দেন সাধারণ সম্পাদক। পরে সরকারি জায়গায় পরিষদের ভবন নির্মাণ করতে আসা ঠিকাদারের কাছে আবদার করে অন্য একটি আধাপাকা ঘর নির্মাণ করান। সেই ঘরে সাইনবোর্ড লাগিয়ে কার্যালয় চিহ্নিত করা হয়। কিন্তু সেখানে সম্ভবত এক দিন নেতাকর্মীরা জমায়েত হয়েছিলেন। এরপর আর কার্যালয়টি ব্যবহার হয়নি। আসবাবশূন্য অবস্থায় কার্যালয়টি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এরপর পর্যায়ক্রমে কখনো স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মালামাল আবার কখনো ইট ও বালু দিয়ে ভর্তি থাকে। বর্তমানে একজন ঠিকাদারের নির্মাণসামগ্রীর সঙ্গে শ্রমিকদের থাকার জায়গা করে দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, হাবিবুর ভাড়াও তুলছেন।

সোহাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ বলেন, ‘সাধারণ সম্পাদক হয়ে দলকে উনি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কার্যালয়টিকে নিজের কবজায় নিয়ে যা ইচ্ছা তাই করছেন। এটা খুবই দুঃখজনক।’

অভিযুক্ত হাবিবুর রহমান জানান, ভাড়ায় নয়, জেলা পরিষদের ঠিকাদার মালামাল ও শ্রমিকদের থাকার জায়গা না পাওয়ায় কার্যালয়টি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া এটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত।

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাজি রফিকুল ইসলাম বুলু বলেন, এটা খুবই দুঃখজনক বিষয়। খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অনামিকা নজরুল বলেন, ওই জায়গা বাজারের হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



সাতদিনের সেরা