kalerkantho

রবিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৮ নভেম্বর ২০২১। ২২ রবিউস সানি ১৪৪৩

কেশবপুরে মাধ্যমিকেই ৪৪২ ছাত্রীর বিয়ে

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি   

২৭ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কেশবপুরে মাধ্যমিকেই ৪৪২ ছাত্রীর বিয়ে

যশোরের কেশবপুরে করোনাকালে মাধ্যমিক পর্যায়েরই ৪৪২ জন ছাত্রী বাল্যবিবাহের শিকার হয়েছে। প্রতিষ্ঠান থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তরে পাঠানো হিসাব থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, করোনার কারণে দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অভিভাবকরা তাঁদের মেয়েদের গোপনে বিয়ে দিয়েছেন। বাল্যবিবাহের শিকার ওই ছাত্রীদের এখন ঠাঁই হয়েছে শ্বশুরবাড়ি।

অভিভাবকদের অসচেতনতার কারণেই ছাত্রীরা বাল্যবিবাহের শিকার হচ্ছে বলে মনে করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে নতুন করে কোনো ছাত্রী যেন বাল্যবিবাহের শিকার না হয়, সে জন্য শিক্ষক ও অভিভাবকদের নিয়ে কাজ শুরু করেছে উপজেলা শিক্ষা দপ্তর।

উপজেলা শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুরে ৭২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ৫২টি দাখিল ও আলিম মাদরাসা রয়েছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২৬ হাজার। করোনার কারণে ৫৪৪ দিন বন্ধ থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গত ১২ সেপ্টেম্বর খুলেছে। সম্প্রতি মাধ্যমিক স্তরের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা হাজিরা খাতা অনুযায়ী অনুপস্থিত, ঝরে পড়া এবং বিবাহিত শিক্ষার্থীর তথ্য উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ৭২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২৫৩ জন এবং ৫২টি মাদরাসার ১৮৯ জন শিক্ষার্থীর বিয়ে হয়ে গেছে।

প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের পাঠানো তালিকা শিক্ষা দপ্তরে জমা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের হিসাবরক্ষক শ্যামল কুমার সিংহ।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি এবং কানাইডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ জানান, গত সোমবার সমিতির সভায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে বাল্যবিবাহের শিকার এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।

উপজেলা নাগরিক সমাজের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু বকর সিদ্দিকী বলেন, মাধ্যমিক পর্যায়ে বাল্যবিবাহের শিকার ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রত্যেক সচেতন মানুষকে এগিয়ে আসা উচিত। তা ছাড়া নতুন করে কোনো ছাত্রী যাতে বাল্যবিবাহের শিকার না হয় সে বিষয়েও শিক্ষক ও অভিভাবকদের কাজ করতে হবে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেভাবে যোগাযোগ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে শিক্ষার্থীদের ক্লোজ মনিটরিং করা হচ্ছে। যারা অনিয়মিত তাদের নিয়মিত করতে শিক্ষকদেরও বাড়ি বাড়ি যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে করে কোনো শিক্ষার্থী ঝরে না পড়ে এবং বাল্যবিবাহের শিকার না হয়।



সাতদিনের সেরা