kalerkantho

সোমবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৯ নভেম্বর ২০২১। ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৩

জরিমানায়ও থামেনি পাহাড় কাটা

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

২৬ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জরিমানায়ও থামেনি পাহাড় কাটা

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার নাপোড়া শামশুইয়া ঘোনা এলাকায় রইস্যা পাহাড়ে এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কাটা চলছে। গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

৩৫ ফুট উঁচু। আয়তন ছয় একর। নাম ছিল বট্টল্যাশিয়া। বর্তমানে রইস্যা পাহাড় নামে পরিচিত। এটি যন্ত্র দিয়ে কাটা হচ্ছে। চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা প্রশাসন জরিমানা করেও থামাতে পারেনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে গ্রামবাসী অভিযোগ দেয় বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে। গত রবিবার বিকেলে ইউএনও মো. সাইদুজ্জামান চৌধুরী এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাজহারুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা এক্সকাভেটর ও ট্রাক জব্দ করেন। পাহাড় কাটায় জড়িত নুরুল আবছার, নুরুল আমিন, মো. দিদার, সাদ্দামকে আটক করেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

জরিমানা দিয়ে মুক্ত হয়ে অভিযুক্তরা গতকাল সোমবার সকাল থেকে আবার ৩৫টি ট্রাক দিয়ে পাহাড় কাটা শুরু করেছেন।

গতকাল সোমবার দুপুর ১২টায় সরেজমিনে দেখা গেছে, বাঁশখালী প্রধান সড়কের নাপোড়া শামশুইয়া ঘোনা সড়কে ট্রাকের সারি। প্রতিটি গাড়িতে পাহাড়ি মাটি। প্রায় দুই কিলোমিটার গ্রামীণ রাস্তায় পাহাড়ি মাটিভর্তি ট্রাকের সারি দেখে গ্রামের মানুষ অস্থির হয়ে উঠেছে। সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের টাকায় ওই সব সড়কের কিছু কিছু জায়গায় ইট বসানো হয়েছে এবং মাটি দেওয়া হয়েছে। অবিরত ট্রাকের আসা-যাওয়ায় ওই সব সড়কের ইট উঠে ভেঙে চৌচির হয়ে গেছে। শেষ প্রান্তে গিয়ে দেখা গেছে, ছয় একরের বট্টল্যাশিয়া পাহাড়। এর এক একর জায়গা কিনেছিলেন মৃত রশিদ আহমদ। তাই ওই পাহাড়টি রইস্যা পাহাড় নামে পরিচিত। খতিয়ানে পাহাড় লেখা থাকলেও ২০১৭ সালে রশিদ আহমদের ছেলে নুরুল আবছার, নুরুল আমিন ও রুহুল আমিনরা তাঁদের নামে নতুনভাবে জমির শ্রেণি পাল্টে খতিয়ান করেছেন ‘নাল’ লেখিয়ে।

গ্রামবাসী জানায়, প্রতি ট্রাক লাল মাটি বেচে এক হাজার ৮০০ টাকা। ৩৫টি ট্রাকের প্রতিটি অন্তত দুপুর পর্যন্ত ১০ গাড়ি করে ৩৫০ গাড়ি মাটি নেয়। যার মূল্য আনুমানিক ছয় লাখ ৩০ হাজার টাকা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, জরিমানা দিয়েও বহুগুণ টাকার মাটি বেচায় মাটি কাটা থামছে না। একটি সূত্র জানায়, এই পাহাড়ের লাল মাটি কিনতে ৩৭ লাখ টাকার চুক্তি করেছে একটি চক্র। চক্রটি আরো বেশি দামে একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে এই মাটি বেচার চুক্তি করেছে বলে শোনা যাচ্ছে।

নুরুল আবছার বলেন, ‘খতিয়ানভুক্ত আমার বাবার নামীয় পাহাড় কাটছি। তা ছাড়া এটা আগে পাহাড় ছিল। এখন নাল জমি।’ এই বলে দৃশ্যমান একটি পাহাড়কে নাল জমি বলে ২০১৭ সালের নতুন সৃজনকরা একটি খতিয়ান দেখালেন।

বাঁশখালীর ইউএনও মো. সাইদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘ওরা আবার পাহাড় কাটলে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করব।’



সাতদিনের সেরা