kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

মোংলা

খাদ্য সহায়তা পাননি জেলেরা

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

২৫ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইলিশ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে আজ সোমবার মধ্যরাতে। অথচ এত দিনেও সরকারি চাল পাননি বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার জেলেরা।

সাগর-নদীতে মাছ ধরেন চাঁদপাই ইউনিয়নের জেলে সুজন সরকার। তিনি বলেন, ‘আমার জেলে কার্ড রয়েছে। একবার চাল পেয়েছি। এখন শুনছি, আমার কার্ড ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কেটে দিয়েছে।’

চাঁদপাই ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য দুর্জয় হালদার বলেন, ‘যারা জেলে না, এমন লোকও কার্ড পেয়েছে। তাই তাদের বাদ দিয়ে প্রকৃত জেলেদের কার্ড দেওয়া হচ্ছে। কার্ড করার সময় অনেক জেলে সাগরে-সুন্দরবনে থাকায় তারা তালিকাভুক্ত হয়নি। নতুন তালিকায় বাদ পড়াদের অন্তর্ভুক্ত করতে মৎস্য কর্মকর্তাদের অনুরোধ জানিয়েছি।’

চিলার জেলে রোকন সরকার বলেন, ‘চলতি ২২ দিনের অবরোধের কোনো খাদ্য সহায়তা আমরা এখনো পাইনি। আমরা খুব কষ্টে আছি।’

চিলার আরেক জেলে অঞ্জন বলেন, ‘আমাদের পেশা নদীতে মাছ ধরা। এখন মাছ ধরা বন্ধ থাকায় কোনো কাজ নেই, খুব কষ্টে আছি।’

কানাইনগর গ্রামের জেলে গাবরিয়েল সরদার বলেন, ‘সারা জীবন জেলে পেশায় আছি। আজও কোনো কার্ড পাইনি। জেলে নেতা বিদ্যুৎ বাবু কার্ড করতে আঠারো শ টাকা চেয়েছিল, দিতে না পারায় কার্ড দেয়নি।’

দক্ষিণ কাইনমারী গ্রামের কমলা সরকার বলেন, ‘আমাদের এখানকার ৯৫ শতাংশ লোকই জেলে। অনেকের জেলে কার্ড আছে চাল পায় না, কী সমস্যা আছে জানি না।’

এ বিষয়ে উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘জেলেদের খাদ্য সহায়তা শিগগির দেওয়া হবে। আর জেলেদের জন্য নতুন তালিকা করা হচ্ছে। এটা হলে অনেকে সহায়তার আওতায় আসবে। যারা প্রকৃত জেলে না তাদের বাদ দেওয়া হবে। আবার সময়মতো প্রকৃত জেলেরা তথ্য না দেওয়ায় বাদ পড়ে থাকতে পারেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘জেলে কার্ড বিতরণের নানা অনিয়মের অভিযোগের বিষয়টি আমারও কানে এসেছে।’

সমুদ্রে ভিনদেশি জেলে

মা ইলিশ ধরায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলছে। এ কারণে বাগেরহাটের মোংলা ও আশপাশের জেলেরা যখন ঘরে, ঠিক তখন ভিনদেশি জেলেরা সাগর থেকে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শিকার করছে।

মোংলা উপজেলার দক্ষিণ কাইনমারী গ্রামের কমলা সরকার জানান, এই গ্রামের ৯৫ শতাংশ লোক জেলে। মাছ ধরায় নিষিদ্ধ সময় চলছে। এই সুযোগে ভারতের জেলেরা এ দেশের সাগর থেকে মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে।

উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এ নিয়ে নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সঙ্গে আলাপ হয়েছে।’

মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেশ মজুমদার বলেন, ‘আমাদের সমুদ্রসীমায় কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর টহল বাড়ানোর জন্য এরই মধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’



সাতদিনের সেরা