kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

কোটি টাকার কাজে জোড়াতালি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা   

২৫ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কোটি টাকার কাজে জোড়াতালি

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের দেওয়া এক কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আটটি হলের সংস্কারকাজ চলছে। ঠিকাদাররা নিম্নমানের পণ্য ব্যবহার করে কোনো রকম জোড়াতালি দিয়ে কাজ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, প্রয়োজন অনুযায়ী ২৮ লাখ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ পায় হলগুলো। দরপত্রের মাধ্যমে পৃথক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়। প্রকৌশল দপ্তর থেকে মেরামত ও রং করার নির্দেশনা থাকলেও বিস্তারিত কোনো রূপরেখা দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া দেরিতে শুরু করায় ঠিকাদারদের দ্রুত কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে। আর এই সুযোগে ঠিকাদাররা দায়সারাভাবে কাজ করছেন।

এদিকে শিক্ষার্থীদের ওঠার আগেই হলগুলো সংস্কারের বরাদ্দ দিলেও কর্তৃপক্ষের ঢিলেমির কারণে তিন মাস পর গত ৪ অক্টোবর কাজ শুরু হয়। একই দিনে সিন্ডিকেট সভায় ৯ অক্টোবর হল খোলার সিদ্ধান্ত হয়। ফলে সংস্কারকাজের মধ্যেই হলে উঠতে হয় শিক্ষার্থীদের। হলে ওঠার পর নানা রকম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, হলগুলোতে বিদ্যুৎ ও পানির লাইন কোনো রকমে সচল করায় প্রতিনিয়ত নতুন করে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। আগের বড় বেসিনগুলো সরিয়ে বসানো হয়েছে কম দামের ছোট বেসিন। নষ্ট হয়ে যাওয়া স্টিলের পানির ট্যাপ খুলে দেওয়া হচ্ছে নিম্নমানের প্লাস্টিকের ট্যাপ। কয়েকটি হলে ট্যাপ বসানোর দু-এক দিনের মধ্যে তা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া হলের বিভিন্ন জায়গায় ফাটল ও ভাঙাগুলোতে কোনো রকম সিমেন্ট ও বালুর প্রলেপ দিয়ে কাজ শেষ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে লালন শাহ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ওয়ায়দুল ইসলাম বলেন, ‘আমি সংস্কারকাজে কোনোভাবে সন্তুষ্ট হতে পারছি না। ঠিকাদাররা কোনো রকম দায়সারাভাবে কাজ শেষ করতে চাচ্ছে। আমাদের চোখে যে অসংগতিগুলো পড়ে সেগুলো ঠিক করতে বলি। কিন্তু সব তো আর খেয়াল করা যায় না। হল প্রশাসনকে দায়িত্ব দিলে এর এক-তৃতীয়াংশ বরাদ্দেও আরো ভালো কাজ করা সম্ভব হতো।’

বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব হলের প্রভোস্ট নিলুফা বানু বলেন, ‘পণ্যের গুণগত মান ভালোভাবে যাচাই করা দরকার। কিন্তু প্রকৌশল দপ্তরের তদারকির কথা থাকলেও তাঁরা সঠিকভাবে করছেন না। আমাদেরও সার্বক্ষণিক থাকার সুযোগ হয় না। ফলে ঠিকাদাররা তাঁদের মতো করে কাজ করছেন।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রভোস্ট বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থানীয় কর্মকর্তাদের একটি চক্র আছে, যারা নামে-বেনামে বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চালান। তাঁদেরই কাজ দেওয়া হয়েছে। ফলে আমরা কিছু বললে সেটা তেমন গুরুত্ব পায় না। হলের কর্মকর্তা বা অন্যরা তো কিছু বলতেই পারেন না।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মুন্সী শহীদ উদ্দিন মো. তারেক বলেন, ‘সংস্কারকাজ নিয়ে আমাদের কাছেও অভিযোগ আসছে। অভিযোগ পাওয়া মাত্র আমরা লোক পাঠিয়ে সেটা ঠিক করার চেষ্টা করছি।’

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘কোনো অভিযোগ আসেনি।’



সাতদিনের সেরা