kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৩০ নভেম্বর ২০২১। ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৩

খোঁচাতেই উঠে যাচ্ছে নতুন ভবনের ঢালাই

এমরান হাসান সোহেল, পটুয়াখালী   

২৪ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খোঁচাতেই উঠে যাচ্ছে নতুন ভবনের ঢালাই

উঠে যাচ্ছে বাউফলের তালতলী ভরিপাশা ইসমাইলিয়া দাখিল মাদরাসার মেঝের ঢালাই। ছবি : কালের কণ্ঠ

পটুয়াখালীর দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে বাউফল উপজেলার তালতলী ভরিপাশা ইসমাইলিয়া দাখিল মাদরাসা ভবন নির্মাণে সিডিউল অনুযায়ী কাজ হচ্ছে না। নিম্নমানের ইট, বালু ও সিমেন্ট দিয়ে চলছে কাজ। ফলে আঙুলের খোঁচায়ই উঠে যাচ্ছে দেয়ালের পলেস্তারা ও মেঝের ঢালাই। অন্যদিকে মির্জাগঞ্জ উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের আবু ইউসুফ আলী মোল্লা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবন উদ্বোধনের ১০ মাসের মধ্যেই দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদ চুইয়ে পড়ছে পানি। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরাজ করছে আতঙ্ক।

বাউফল : উপজেলার তালতলী ভরিপাশা ইসমাইলিয়া দাখিল মাদরাসা ভবন কাম ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রের নির্মাণকাজ চলছে। তিন তলাবিশিষ্ট এই ভবনটির ৯০ শতাংশ কাজ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে আল আমিন সিকদার নামের এক ঠিকাদার কাজটি বাস্তবায়ন করছেন। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দুই কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে এর কাজ শুরু হয়। শুরু থেকেই ভবনটির নির্মাণকাজ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের ইট, বালু ও সিমেন্ট দিয়ে নির্মাণকাজ করা হয়েছে। ফলে ছাদ চুইয়ে পড়ছে পানি। ভবনের প্রতিটি কক্ষের দেয়ালে ধরেছে ফাটল। নিচতলায় ইট, রড না দিয়ে শুধু বালুর ওপর পলিথিন বিছিয়ে ২.৫ ইঞ্চি ঢালাই করা হয়েছে। ফলে আঙুলের খোঁচাতেই উঠে যাচ্ছে মেঝের ঢালাই। একই অবস্থা দেয়ালের পলেস্তারারও।

মাদরাসার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. ফেরদৌস বলেন, ‘সিডিউল অনুযায়ী কাজ করা হয়নি। নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। এ কারণেই ভবনের নানা স্থানে সমস্যা দেখা দিয়েছে।’ তবে মেসার্স সিকদার কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী আল আমিন সিকদার বলেন, ‘কাজে কোনো রকম অনিয়ম হয়নি। এলাকার কিছু মানুষ আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে।’ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজিব বিশ্বাস বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ায় আপাতত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মির্জাগঞ্জ : উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের আবু ইউসুফ আলী মোল্লা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য ২০১৮-১৯ অর্থবছরে একটি ভবন বরাদ্দ দেওয়া হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রলালয়ের অধীনে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র কাম বিদ্যালয় ভবন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় দুই কোটি ১৮ লাখ টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স খান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী খলিলুর রহমান নির্মাণকাজের দায়িত্ব পান। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে নির্মাণকাজ শেষ হলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয় ভবনটি। কিন্তু ভবন উদ্বোধনের ১০ মাসের মধ্যেই দেয়ালে ফাটল দেখা দেয়। গত ১২ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্যবিধি মেনে ওই ভবনে পাঠদান শুরু হলেও ফটল দেখা দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোতাহের উদ্দিন গাজী জানান, ভবনের নির্মাণকাজে অনিয়ম হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স খান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমার লাইসেন্স নিয়ে অন্য এক ব্যক্তি কাজটি করেছেন।’ খলিলুর রহমানের সহযোগী ঠিকাদার মো. মামুন বলেন, ‘বিদ্যালয়ের যেসব স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে, তা দ্রুত মেরামত করে দেব।’



সাতদিনের সেরা