kalerkantho

রবিবার । ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৫ ডিসেম্বর ২০২১। ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৩

সরে গেল স্কুল, বন্ধ ২৭৯ শিশুর পড়া

অমিতাভ দাশ, গাইবান্ধা   

২৪ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সরে গেল স্কুল, বন্ধ ২৭৯ শিশুর পড়া

ফুলছড়ির দক্ষিণ ঝানঝাইরের এই স্থানে ছিল বিদ্যালয়টি। এখন তা শিক্ষার্থীদের কাছে শুধুই স্মৃতি। ছবি : কালের কণ্ঠ

জিয়াডাঙ্গা কমিউনিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় যমুনা নদীতে ভাঙার পর তিন কিলোমিটার দূরে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ কারণে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ২৭৯ শিশুর পড়াশোনা বন্ধের পথে।

স্থানীয় লোকজন জানায়, বিদ্যালয়টি ছিল গজারিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ঝানঝাইরে। গত ১ সেপ্টেম্বর উড়িয়া ইউনিয়নের চর রতনপুরে বিদ্যালয়টি স্থানান্তর করা হয়। গত ১২ সেপ্টেম্বর দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও নৌকায় পার হওয়ার ভয়ে বিদ্যালয়টিতে যাচ্ছে না শিশুরা। এ নিয়ে প্রতিকার চেয়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন অভিভাবকরা।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, চর রতনপুরের ফাঁকা জায়গায় কোনো রকমে একটি টিনের ছাপরা তুলে ক্লাস নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী নেই। প্রধান শিক্ষকসহ চারজন শিক্ষক অলস সময় কাটাচ্ছেন।

প্রধান শিক্ষক মো. আকরাম হোসেন জানান, ১৯৯১ সালে বিদ্যালয়টি স্থাপন করা হয়। এর পর থেকে চার চালা দুটি টিনের ঘরে শিক্ষা কার্যক্রম চলত। তিন মাস আগে এলাকায় যমুনার তীব্র ভাঙন দেখা দেয়। এ কারণে বিদ্যালয়টি রতনপুরে নিয়ে আসা হয়েছে। কোনো ছাত্র-ছাত্রী আসে না। শিশুরা ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় এখানে আসতে চাইছে না।

আগের এলাকায় যেতে নদী পার হতে হয়। সেখানে গিয়ে দেখা মিলল পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ববি আক্তারের। ছলছল চোখে সে বলে, ‘করোনার ছুটির পর বিদ্যালয় খোলার দিনে এসে দেখি আমাদের গ্রামে স্কুলটি নেই। বাবা বললেন, অত দূরে নৌকায় চড়ে প্রতিদিন যাওয়া সম্ভব না। স্কুলে যাওয়ার দরকার নেই। আমার পড়াশোনা বোধ হয় শেষ হয়ে গেল।’ একই ধরনের কথা বলে নদীর পারে দাঁড়িয়ে থাকা উম্মে কুলসুম। পাশ থেকে শরিফা বলে, ‘যাওয়া-আসার খরচ, সঙ্গে যাওয়ার লোক কই পাব? তাই দূর থেকে শুধু তাকিয়ে থাকি।’

অভিভাবক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা নদীভাঙন ও চরের স্বভাব বুঝি। বিদ্যালয়টি যদি পশ্চিম ঝানঝাইর, উত্তর ঝানঝাইর ও ঝানঝাইর সংলগ্ন উত্তর চর গজারিয়ায় স্থাপন করা যেত, তাহলে ছেলেমেয়েদের শিক্ষাজীবন ঝুঁকিতে পড়ত না। কী স্বার্থে জানি না, তাঁরা একজনের অন্যায় আবদার রেখেছেন। অথচ সেখানে এক কিলোমিটার মধ্যে চন্দনস্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আঙ্গারিদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।’

আরেক অভিভাবক মোহাম্মদ শহীদ জানান, পরিচালনা কমিটি ও অভিভাবকদের অজান্তে নদীর অন্য প্রান্তে বিদ্যালয়ের মালপত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। এটা শিশুদের সঙ্গে প্রতারণা। সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মহলটিকে প্রশ্রয় দিয়েছেন।

বিদ্যালয় স্থানান্তরের আবেদনকারী মো. শামছুল হক ভুঁইয়া বলেন, ‘অভিযোগ সঠিক নয়। সিদ্ধান্ত কর্তৃপক্ষ নিয়েছে।’

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীন জানান, এলাকাটি ভেঙে যাওয়ায় ঘর, চেয়ার-বেঞ্চসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র খুলে রাখা হয় পশ্চিম ঝানঝাইরে। কেন যে এগুলো দূরে সরানো হলো তা তিনি জানেন না।

ফুলছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কফিল উদ্দিন বলেন, ‘উপজেলা চেয়ারম্যানের পরামর্শ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি স্থানান্তর করা হয়।’

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হোসেন আলী বলেন, ‘উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষা কমিটির সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিতে বলেছি। কিন্তু সেটি যে রতনপুরে সরানো হয়েছে, তা আমার জানা নেই।’

ফুলছড়ির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু রায়হান দোলন বলেন, ‘শিশুদের স্বার্থ সবার আগে দেখা হবে। কোনোভাবেই তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না।’



সাতদিনের সেরা