kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

টাকায় মনোনয়নপত্র সংশোধন

নড়াইল প্রতিনিধি   

২২ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মনোনয়নপত্র সংশোধনের জন্য টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নড়াইল সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও দুটি ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা রিটার্নিং অফিসারের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে খোদ নড়াইল পৌর মেয়রের সামনে কাউন্সিলরকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন ওই কর্মকর্তা।

গত বুধবার দুপুরে নড়াইল সদর উপজেলায় এই ঘটনা ঘটে। পৌর মেয়র আনজুমান আরা রিটার্নিং অফিসারের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ আনেন উপস্থিত সাংবাদিকের সামনে। এই ঘটনার পরপরই সদর থানা থেকে চারজন পুলিশের একটি দল আসে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে।

ভুক্তভোগী নড়াইল সদরের ভদ্রবিলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য পদপ্রার্থী মনিরুজ্জমান অভিযোগ করেন, বুধবার তাঁকে ফোন করে মনোনয়নপত্রে কয়েক জায়গায় ভুল এবং তা সংশোধনের জন্য আসতে বলেন অফিস সহকারী মতিয়ার রহমান। দুপুর ২টার দিকে গেলে মনোনয়নপত্রে এনআইডি কার্ডের সঙ্গে তাঁর নামসহ কয়েকটি ভুলের কথা বলা হয়। এগুলো সংশোধনের জন্য পাঁচ হাজার টাকা চান মতিয়ার। এর আগে শনিবার মনোনয়নপত্র লেখার জন্য ওই অফিস সহকারী তাঁর কাছ থেকে ৫০০ টাকা নিয়েছিলেন। বিষয়টি তাঁর মামা নড়াইল পৌরসভার কাউন্সিলর রাজু মোল্লাকে জানান তিনি। রাজু গিয়ে ভুল সংশোধনের অনুরোধ করলে দুর্ব্যবহার করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন প্রার্থী অভিযোগ করেন, যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সদর উপজেলার অন্য কোনো রিটার্নিং দপ্তরে প্রার্থীকে না ডাকলেও সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বাঁশগ্রাম ও ভদ্রবিলা ইউনিয়নের সব প্রার্থীকে ডেকেছেন।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে কয়েকজন প্রার্থীর সমর্থক জানান, মনোনয়নপত্রে নামের বানান ভুল সংশোধনের জন্য ওই অফিস সহকারী দুই হাজার থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন।

নড়াইল পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রাজু মোল্লা বলেন, ‘আমার ভাগ্নে মনিরুজ্জামানের নামের বানান সংশোধনের জন্য রিটার্নিং অফিসারের কাছে গেলে তিনি দুর্ববহার করেন এবং কক্ষ থেকে চলে না গেলে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।’

নড়াইল পৌর মেয়র আনজুমান আরা বলেন, ‘টাকা চাওয়ার বিষয়ে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার (রিটার্নিং অফিসার) কাছে যাই। আমার পেছনে পৌর কাউন্সিলর রাজুকে দেখে কৃষি কর্মকর্তা দুর্ব্যবহার করে বের করে দেন। এটা অপমানজনক ঘটনা।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, ভদ্রবিলা ও বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের রিটার্নিং অফিসার মো. জাহিদুল ইসলাম বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা প্রার্থীদের ডেকেছি বিভিন্ন ভুল সংশোধনের জন্য। টাকা-পয়সা লেনদেনের বিষয়টি ভিত্তিহীন। আমার অফিসে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

উল্লেখ্য, দ্বিতীয় ধাপে নড়াইল সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে ১১ নভেম্বর নির্বাচন।



সাতদিনের সেরা