kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

অস্তিত্বহীন চালকল থেকে সাড়ে ৩ হাজার টন চাল সংগ্রহ

তারিকুল হক তারিক, কুষ্টিয়া   

২২ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অস্তিত্বহীন চালকল থেকে সাড়ে ৩ হাজার টন চাল সংগ্রহ

অস্তিত্বই নেই। তার পরও কাগজে-কলমে আছে জেলা খাদ্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের সরকারি চালকলের তালিকায়। শুধু লাইসেন্স থাকায় অস্তিত্বহীন এসব চালকল থেকে গেল আগস্টে তিন হাজার ৪৩১ টন বোরো চাল সরকারিভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে। অচল কিংবা বন্ধ মিলকে চাল সংগ্রহ অভিযানে না রাখার নিয়ম থাকলেও এ ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। ঘটনাটি কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের। সেখানকার চালকলের তালিকায় ৪৯টির নাম থাকলেও বাস্তবে আছে মাত্র দুটি। বাকি ৪৭টি অস্তিত্বহীন মিলের ভুয়া মালিকরা কৌশলে বাজার থেকে চাল কিনে গুদামে সরবরাহ করেন।

বাস্তবে এসব চালকলের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া না গেলেও অফিসের কাগজে-কলমে নাম থাকা এই মিল মালিকরা আসছে আমন সংগ্রহের তালিকায় নতুন করে নিজের চালকলের নাম যুক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ রকম প্রেক্ষাপটে সচল মিল মালিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। তাঁরা ওই সব মিল মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি তুলেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এর আগে গত ডিসেম্বরে জেলা খাদ্য কর্মকর্তা দৌলতপুরের ভুয়া মালিকদের সঙ্গে যোগসাজশ করে আমন সংগ্রহের তালিকায় ৪৭টি বন্ধ মিলকে অন্তর্ভুক্ত করে নেন। চাল সংগ্রহের বরাদ্দ দিয়ে পরে তাঁরা ভাগ করে নেন সব সুবিধা। অভিযোগ রয়েছে, এসব সুবিধার অংশ চাল ক্রয় কমিটির স্থানীয় সভাপতি ও সব সদস্যসহ কিছু ব্যক্তিও পেয়েছেন। একই ব্যক্তির নামে একাধিক লাইসেন্স থাকায় খাদ্য কর্মকর্তা ও মিল মালিকরা এ ধরনের অনিয়মে উৎসাহিত হন বলেও অভিযোগে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মিল মালিক অভিযোগ করেন, অস্তিত্বহীন মিলের প্রতিটিকে ১৪ থেকে ২৬ টন পর্যন্ত চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মথুরাপুরের শহীদুল রাইস মিল, মানিকদিয়াড়ের সাজেদুল রাইস মিল, হোসেনাবাদের মাস্টার রাইস মিল, গোয়ালগ্রামের জুলহাস রাইস মিল, খাসমথুরাপুরের নজরুল রাইস মিল, তেলিগাংদিয়ার ছইরুদ্দিন রাইস মিল, রেফায়েতপুরের পারভেজ রাইস মিল, গাছেরদিয়াড়ের রমজান রাইস মিল, আজিজুল রাইস মিল, মোহন রাইস মিল, ফিলিপনগরের শিশির রাইস মিল, মহিষকুণ্ডির মোল্লা রাইস মিল, সাদিকুল রাইস মিল উল্লেখযোগ্য।

স্থানীয় লোকজন জানায়, তারা এসব মিলের নাম কোনো দিন শোনেনি। তবে দু-একটি মিল আগে থাকলেও অনেক আগেই চালকল গুটিয়ে মালিকরা অন্য ব্যবসা করছেন। আবার অনেকে চালকলের লাইসেন্স করলেও মিল স্থাপন করেননি।

দৌলতপুরের খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আগের মতো আর ধান-চালের ব্যবসা নেই। লোকসান দিতে দিতে অনেক মিল মালিক দেউলিয়া হয়ে গেছে। তারা চাতাল-মিল বিক্রি করে অন্য ব্যবসা করছে। সেসব জায়গায় এখন আর মিল নেই। আর বেশির ভাগ মিলের অস্তিত্ব কোনো দিন ছিল না, এখনো নেই। তার পরও তাদের লাইসেন্স আছে, তারা গুদামে চাল নিয়ে এলে আমি নিতে বাধ্য।’

অস্তিত্বহীন এসব মিল মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা কেউই এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজি হননি। কুষ্টিয়া জেলা চালকল মালিক সমিতির একাংশের সভাপতি আব্দুস সামাদ বলেন, ‘কার মিল আছে, কার নেই এসব খুঁজে করে বের করার ক্ষমতা আমাদের নেই। খাদ্য বিভাগ বলতে পারবে কোন মিল বাস্তবে আছে, আর কোনটি নেই। কারণ তারা মিলের লাইসেন্স দিয়ে থাকে। দেখভাল করার দায়িত্বও তাদের।’

এসব অভিযোগ স্বীকার করে কুষ্টিয়া জেলা খাদ্য কর্মকর্তা তাহসিনুল হক বলেন, ‘আমাদের কাছেও অভিযোগ এসেছে। তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এর আগে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর কালের কণ্ঠে ‘কুষ্টিয়ায় সরকারি আমন চাল সংগ্রহ : অস্তিত্বহীন মিল থেকে কেনা হবে হাজার টন’ শিরোনামে খবর প্রকাশিত হলে খাদ্য অধিদপ্তরের টনক নড়ে। এর পরের দিন জেলা খাদ্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি কালের কণ্ঠের খবরের সত্যতা পেয়ে সদর উপজেলার ৩৩টি অস্তিত্বহীন চালকলের বরাদ্দ বাতিল করেছিল।



সাতদিনের সেরা