kalerkantho

সোমবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৯ নভেম্বর ২০২১। ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৩

রসিদ ছাড়া টাকা আদায়

ইবির শেখ রাসেল হলে ২২ সিটের বিপরীতে দুই শতাধিক আবেদন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা   

২০ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রসিদ ছাড়া টাকা আদায়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শেখ রাসেল হলে সিট বরাদ্দের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ২২টি সিটের বিপরীতে দুই শতাধিক আবেদন নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এসব আবেদনের ক্ষেত্রে ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও তা মানা হয়নি। এমনকি হাতে হাতে টাকা নিয়ে কোনো রসিদও দেওয়া হয়নি।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদকের দখলে থাকা পাঁচটি কক্ষসহ মোট ২২ সিটের বিপরীতে গত ৩ অক্টোবর বিজ্ঞপ্তি দেয় হল কর্তৃপক্ষ। বিজ্ঞপ্তিতে পরবর্তী চার দিনের মধ্যে হল অফিসে ২০০ টাকা জমা দিয়ে শিক্ষার্থীদের আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে বলা হয়। হল বন্ধ থাকলেও এ সময়ে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী আবেদন করেন। শিক্ষার্থীরা জানান, হল থেকে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে সিটসংখ্যা উল্লেখ ছিল না, এ জন্য অনেক শিক্ষার্থী আবেদন করেন। আবেদনের সময় তাঁদের কাছ থেকে নগদ টাকা নিয়েছে হল কর্তৃপক্ষ। তবে হল থেকে কোনো রসিদ দেওয়া হয়নি।

এদিকে আবেদনের সময় শেষ হওয়ার তিন দিন পর গত ১০ অক্টোবর সাক্ষাৎকার ছাড়া সিটগুলোর জন্য মনোনীত ২২ শিক্ষার্থীর তালিকা প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ। এ ক্ষেত্রে হলটিতে দীর্ঘদিন গণরুমে থাকা শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার না দিয়ে সদ্য ভর্তি হওয়া প্রথম বর্ষের কয়েকজনকে সুবিধা দিতে দেখা গেছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন গণরুমে থাকা শিক্ষার্থীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গণরুমে থাকা এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আবেদনকে মূলত হল কর্তৃপক্ষ ফি বাবদ উপার্জনের একটা মাধ্যম বানিয়েছে।’

এ বিষয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. তপন কুমার জোদ্দার বলেন, ‘হলের যেকোনো ফি ব্যাংকের মাধ্যমে জমা দিতে হয়। নগদ টাকা নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। আর আবাসিকতা দেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎকার নিয়ে বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হয়।’

এ বিষয়ে হলের শাখা কর্মকর্তা সুজল কুমার অধিকারী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্যাংক বন্ধের দিনেও আবেদন নেওয়া হয়েছে, তাই ব্যাংকে টাকা দেওয়ার সুযোগ কম ছিল। শিক্ষার্থীদের রসিদ দেওয়া না হলেও হলের রেজিস্টার বইয়ে সব তথ্য লেখা আছে।’

শেখ রাসেল হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘এটি বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারিত কোনো ফি না। হল কর্তৃপক্ষ ফরমের টাকা নির্ধারণ করেছে। তাই ব্যাংকে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। শিক্ষার্থীদের সব টাকা হল তহবিলে জমা হয়েছে, এটা নিশ্চিত। সাক্ষাৎকার নেওয়া না হলেও আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের জ্যেষ্ঠতা, মেধা, দূরত্ব ও দারিদ্র্য বিবেচনা করে আবাসিকতা দেওয়া হয়েছে।’



সাতদিনের সেরা