kalerkantho

সোমবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৯ নভেম্বর ২০২১। ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৩

সড়ক দুর্ঘটনায় পরিবারের চারজনের মৃত্যু

‘আমারে অহন কে দেখব’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ ও ফুলপুর প্রতিনিধি   

১৮ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



‘আমারে অহন কে দেখব’

ফুলপুরে নিহতদের স্বজনদের কান্না

ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশের পরিবেশ। গত শনিবার রাতে ফুলপুর উপজেলার হাটপাগলা গ্রামের চানু মণ্ডলের বাড়িতে নিহতদের লাশ পৌঁছলে এক হূদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। উপার্জনক্ষম ছেলেসহ পরিবারের চার সদস্যকে হারিয়ে অনেকটা পাগলপ্রায় হয়ে ওঠেন বৃদ্ধ বাবা চানু মণ্ডল। বিলাপ করতে করতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তিনি।

এর আগে শনিবার বিকেলে ত্রিশাল উপজেলার চেলেরঘাটে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় হাটপাগলা গ্রামের চানু মণ্ডলের ছেলে ফয়জুর রহমান, পুত্রবধূ ফাতেমা, নাতনি মারিয়া (৮) ও নাতি আব্দুল্লাহ (৫)। ওই দিন রাত ১১টায় পিকআপ ভ্যানে লাশ গ্রামে পৌঁছয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মানিকগঞ্জের সিংগাইর এলাকায় ছোটখাটো একটি ব্যবসা করতেন ফয়জুর রহমান। সেই ব্যবসার সামান্য আয় থেকেই বৃদ্ধ বাবা চানু মণ্ডলের চিকিত্সা করাতেন তিনি। বাবার অসুস্থতার কথা শুনে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন ফয়জুর রহমান; কিন্তু ত্রিশালের চেলেরঘাটে পৌঁছলে এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তাঁরা।

চানু মণ্ডলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, লাশের সামনে এসে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন বাবা চানু মণ্ডল। জ্ঞান ফিরলেই বিলাপ করে বলছিলেন, ‘আমারে দেহনের লাইগ্যা আইয়া ছেলে-বউ-নাতি বেহেই দুনিয়া ছাইড়া চইল্যা গেল। আমারে অহন কে দেখব?’

এ দুর্ঘটনায় নিহত ফয়জুর রহমানের চাচা রফিক মণ্ডল জানান, গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ৯টায় হাটপাগলা মাদরাসাসংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানে নিহত চারজনকে দাফন করা হয়। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদসহ এলাকাবাসী এতে অংশ নেয়। এ সময় সবার চোখ ছিল অশ্রুসজল। ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শীতেষ চন্দ্র সরকার বলেন, ‘এটি একটি মর্মান্তিক ঘটনা। সরকারিভাবে পরিবারটিকে আর্থিক অনুদানসহ সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।’



সাতদিনের সেরা