kalerkantho

বুধবার । ১১ কার্তিক ১৪২৮। ২৭ অক্টোবর ২০২১। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

নিয়ম ভেঙে এমপি মনসুরের ডিও

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

১৪ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিয়ম ভেঙে এমপি মনসুরের ডিও

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার পুরান তাহেরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি পদের জন্য ত্রিমুখী লড়াই চলছে। এই তিনজনের মধ্যে একজনের জন্য সুপারিশ করেছেন রাজশাহী-৫ আসনের (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) সংসদ সদস্য (এমপি) মনসুর রহমান। তবে নিয়ম অনুযায়ী, এমপিরা কাউকে সভাপতি করতে অনানুষ্ঠানিক চিঠি (ডিও লেটার) দিতে পারেন না।

এ নিয়ে রাজশাহীর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক বরাবর গত ১৩ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ের আহ্বায়ক কমিটির সভাপতি আব্দুস সাত্তার লিখিত অভিযোগ করেন। উপপরিচালক তদন্তের নির্দেশ দেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহেদুল হক গত মঙ্গলবার তদন্ত শুরু করেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রধান শিক্ষককে ডেকে ঘটনা শুনেছি। তদন্ত চলমান। এর বেশি আপাতত বলা যাচ্ছে না।’

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৩ নভেম্বর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড থেকে সাত্তারকে সভাপতি মনোনীত করা হয়। ওই বছরের ৯ নভেম্বর একই বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আহমদ আলী উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশন করেন। উচ্চ আদালত চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি আরেকটি আদেশে আহ্বায়ক কমিটিকে ২০২২ সালের ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ক্ষমতা দিয়ে একটি নির্দেশনা জারি করেন।

এই নির্দেশনা লঙ্ঘন করে স্থানীয় এমপি মনসুর রহমান নওপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি আব্দুল মালেককে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি পদে মনোনীত করতে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে একটি ডিও লেটার দেন। তবে মালেককে সভাপতি না করে শিক্ষা বোর্ড থেকে সাত্তারকে সভাপতি করা হয়।

আব্দুল মালেক বলেন, ‘আমি বিএনপি করতাম। কিন্তু কোনো পদে ছিলাম না। পাঁচ বছর ধরে এমপির সঙ্গে আছি। আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যও নির্বাচিত হয়েছি।’

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান মকবুল হোসেন বলেন, ‘এটি আমার জানা নেই। তবে আইনগতভাবে এমপিরা কাউকে সভাপতি করতে ডিও লেটার দিতে পারেন না।’

এমপি মনসুর রহমান বলেন, ‘ডিও লেটার দিয়েছি আব্দুল মালেককে সভাপতি করতে। কিন্তু বোর্ড চেয়ারম্যান সেটি গ্রহণ না করে অন্য একজনকে সভাপতি করেছেন। তবে সেই সিদ্ধান্ত মানেননি কমিটির অন্য সদস্যরা।’

আহ্বায়ক কমিটির সভাপতি আব্দুস সাত্তার অভিযোগ করে বলেন, ‘যুবদল থেকে বিএনপি নেতা এবং পরে আওয়ামী লীগ নেতা মালেককে এমপি ডিও লেটার দিয়েছেন; কিন্তু তিনি সেটি দিতে পারেন না। অন্যদিকে সাবেক সভাপতি আহমেদ আলীও উচ্চ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে একাধিকবার বেতন বিলে স্বাক্ষর করেছেন।’

এদিকে বিদ্যালয়ের নথি সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরির্দশক দেবাশীষ রঞ্জন দাস গত ৭ জুলাই উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যালয় পরিচালনা করার জন্য ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে একটি চিঠি দেন। ওই চিঠির নির্দেশনাও বাস্তবায়ন করেননি প্রধান শিক্ষক। তিনি ইচ্ছামতো বিদ্যালয় পরিচালনা করে যাচ্ছেন।

সাবেক সভাপতি আহমেদ আলী বলেন, ‘আমি বৈধ সভাপতি। যিনি আহ্বায়ক কমিটির সভাপতি বলে দাবি করছেন, সেটি বিদ্যালয়ের কেউ জানেন না।’

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জামেদ আলী বলেন, ‘সভাপতি মনোনয়ন নিয়ে বেশ কিছু ঝামেলা চলছে। তবে আমি কোনো অনিয়ম করিনি।’



সাতদিনের সেরা