kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৯ ডিসেম্বর ২০২১। ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

আ. লীগের ভোট হবে ২০ ভাগ

চট্টগ্রামের চকবাজার ওয়ার্ডে উপনির্বাচন আজ

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

৭ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আ. লীগের ভোট হবে ২০ ভাগ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) এ পর্যন্ত ছয়টি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সবকটিতে নগরের ১৬ নম্বর চকবাজার সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে বিজয়ী হন সাইয়েদ গোলাম হায়দার মিন্টু। এর আগে ১৯৭৭ সালে চট্টগ্রাম পৌরসভা থেকে একবার কমিশনার নির্বাচিত হন তিনি। ভোটের মাঠে কখনো হার না মানা এই নেতার আকস্মিক মৃত্যুতে কাউন্সিলর পদ শূন্য হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এই ওয়ার্ডে উপনির্বাচন হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার।

গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে প্রচার-প্রচারণার মধ্য দিয়ে ২১ প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচার শেষ হয়। এই ওয়ার্ডে এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত কাউন্সিলর নির্বাচনগুলোর প্রত্যেকটিতে হাতেগোনা কয়েকজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। সর্বশেষ গত ২৭ জানুয়ারি চসিকের ষষ্ঠ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ সমর্থিত মিন্টুর সঙ্গে বিএনপি সমর্থিত এ কে এম সালাউদ্দীন কাউসার লাভুসহ তিনজন লড়েছিলেন। তবে আওয়ামী লীগের মিন্টু বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর গত ১৮ মার্চ আকস্মিক মৃত্যু হয় এই নেতার। ফলে এখানকার কাউন্সিলর পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়।

স্থানীয়রা জানায়, এত প্রার্থী অতীতের অন্য কোনো নির্বাচনে চকবাজার তথা চট্টগ্রামবাসী দেখেনি। এর মধ্যে বিএনপির একক প্রার্থী থাকলেও অন্য ২০ জনই আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রার্থীর ছড়াছড়ির কারণে নতুন করে বিরোধ এড়াতে আওয়ামী লীগ এবার একক প্রার্থী দিতে পারেনি। ফলে আওয়ামী লীগের ভোট ২০ ভাগ হবে বলে অনেকে মন্তব্য করেন।

নগরের নামি-দামি অনেক শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান থাকা চকবাজার ওয়ার্ডে ৩২ বছরের বেশি সময় ধরে কাউন্সিলর ছিলেন মিন্টু। উপনির্বাচনের মাধ্যমে প্রায় তিন যুগ পর এই ওয়ার্ড পাচ্ছে নতুন কাউন্সিলর। ফলে মিন্টুবিহীন এই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর হিসেবে কে বিজয়ী হচ্ছেন—তা নিয়েও চলছে নানা আলোচনা।

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয় থেকে জানা গেছে, আজ সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ওয়ার্ডের ১৫ কেন্দ্রের ৮৬ বুথে ভোট নেওয়া হবে। এই ওয়ার্ডে মোট ভোটারসংখ্যা ৩২ হাজার ৪২ জন।

এবারের নির্বাচনে প্রয়াত কাউন্সিলর মিন্টুর সহধর্মিণী মেহেরুন্নিছা খানমও প্রার্থী হয়েছেন। এ ছাড়া মহানগর আওয়ামী লীগের প্রয়াত সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী ইনামুল হক দানুর ছেলে কাজী মুহাম্মদ ইমরান, বিএনপির সালাউদ্দীন কাউসার লাভুসহ আরো ১৮ জন প্রার্থী রয়েছেন।

কাউন্সিলর প্রার্থী মেহেরুন্নিছা খানম বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমি বিজয়ী হব।’ আরেক প্রার্থী কাজী মুহাম্মদ ইমরান বলেন, ‘জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।’ বিএনপির সালাউদ্দীন কাউসার লাভুও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

চকবাজার ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ ঘরানার ২০ প্রার্থীর বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ বলেন, ‘উপনির্বাচনে আমাদের দল থেকে কোনো প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া হয়নি। যারা দাঁড়িয়েছেন তাঁরা নিজেদের মতো করে দাঁড়িয়েছেন। জনগণ যাঁকে ভোট দেবেন তিনিই নির্বাচিত হবেন।’

এদিকে নির্বাচনকে ঘিরে বিতর্কিত দুই প্রার্থী নূর মোস্তফা টিনু ও আব্দুর রউফের অনুগতরা এলাকায় উত্তাপ ছড়িয়েছে। ভোটের দিন এই দুই প্রার্থীর লোকজন সশস্ত্র মহড়া দিতে পারে—এমন শঙ্কার কথা উঠে এসেছে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনেও। ফলে শঙ্কা নিয়েই কেন্দ্রে যেতে হবে প্রায় ৩২ হাজার ভোটারকে। তবে এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের পাঁচজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনী মাঠে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনায় তাত্ক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেবেন তাঁরা।’



সাতদিনের সেরা