kalerkantho

শনিবার । ৩১ আশ্বিন ১৪২৮। ১৬ অক্টোবর ২০২১। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনা

১৪ ছাত্রের চুল কাটলেন শিক্ষক

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১৪ ছাত্রের চুল কাটলেন শিক্ষক

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশে শিক্ষার্থীরা গতকাল বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। ছবি : কালের কণ্ঠ

শিক্ষক ছাত্রের আচরণ ও পোশাক রুচিশীল করতে পরামর্শ দিতে পারেন। তাই বলে তিনি কি ছাত্রের চুল কেটে দিতে পারেন? সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন ১৪ ছাত্রের মাথার চুল কাঁচি দিয়ে কাটার পর এই প্রশ্ন তুলেছেন ছাত্ররা?

এর প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা ও ক্লাস বর্জন করে একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয়। চুল কাটার ঘটনা ঘটে গত রবিবার দুপুরে। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের প্রথম বর্ষের রাষ্ট্রবিজ্ঞান পরিচিতি বিষয়ের চূড়ান্ত পরীক্ষার হলে প্রবেশের সময় চুল কাটেন শিক্ষক। এ ঘটনায় ছাত্র নাজমুল হাসান তুহিন অপমানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তাঁকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে এনায়েতপুর খাজা ইউনুছ আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন একই বিভাগের সহকারী প্রক্টর রাজিব অধিকারী ও জান্নাতুল ফেরদৌস মুনি। এ সময় তাঁরা এই অসম্মানজনক ঘটনার কোনো প্রতিবাদ করেননি। এ ঘটনার পর গত সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাঞ্ছিত পরীক্ষার্থী ও তাঁদের সহপাঠীরা প্রতিবাদে পরীক্ষা বর্জন করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করার জন্য বিসিক বাসস্ট্যান্ড এলাকার শাহজাদপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের অস্থায়ী ক্যাম্পাসের গেটে জড়ো হন। কিন্তু ওই শিক্ষক ও তাঁর ভাড়াটিয়া বাহিনী শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে সবাইকে পরীক্ষার হলে যেতে বাধ্য করে। তবে এ ঘটনায় লাঞ্ছিত একাধিক শিক্ষার্থী জানান, কয়েক দিন আগে ক্লাস চলাকালে ওই শিক্ষক চুল বড় রাখার বিষয়ে ছাত্রদের গালমন্দ করেন। তাঁরা আরো জানান, পরীক্ষার হলে ঢোকার সময় আগে থেকেই দরজার সামনে ওই শিক্ষক কাঁচি হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। যাঁদের চুল মুঠোর মধ্যে ধরা গেছে, তাঁদের মাথার সামনের বেশ খানিকটা চুল তিনি কাঁচি দিয়ে কেটে দিয়েছেন। তাঁরা আরো জানান, সবার সামনে এভাবে তাঁদের লাঞ্ছিত করার পর ওই শিক্ষক জোর করে তাঁদের পরীক্ষা দিতে বাধ্য করেছেন।

গতকাল শিক্ষার্থীরা ফারহানা ইয়াসমিনের অপসারণ দাবি করে একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনের তালা দেন। ভিসি বরাবর স্মারকলিপিও দেন। ভারপ্রাপ্ত ভিসি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে ছাত্ররা একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনের তালা খুলে দেন।

শিক্ষার্থীরা আরো জানান, ফারহানা ইয়াসমিন একজন বদমেজাজি ব্যক্তি। তিনি কথায় কথায় শিক্ষার্থীদের বকাঝকা করেন। এদিকে এ ঘটনাটি রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী ফেসবুকে পোস্ট দিলে তা মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক শাস্তি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালাপরিপন্থী।

এ বিষয়ে ফারহানা ইয়াসমিনের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। সহকারী প্রক্টর জান্নাতুল ফেরদৌস মুনি বলেন, ‘এটা তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার। এখানে আমরা হস্তক্ষেপ করতে পারি না।’

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ভিসি ও ট্রেজারার আব্দুল লতিফ বলেন, ‘ছাত্রদের চুল কাটা ঠিক হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’



সাতদিনের সেরা