kalerkantho

শনিবার । ৩১ আশ্বিন ১৪২৮। ১৬ অক্টোবর ২০২১। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

দিনাজপুর

পুতুলের বিয়েতে শিশু-মা!

দিনাজপুর প্রতিনিধি   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পুতুলের বিয়েতে শিশু-মা!

তিতলি আর তিষান নামে দুই পুতুলের বিয়ে। বিয়ের আসরে অতিথি ছিল এলাকার কচিকাঁচাসহ প্রায় ১০০ জন। দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌর শহরের কাঁটাবাড়ী গ্রামে ছাদনাতলায় সোমবার রাতে। ছবি : কালের কণ্ঠ

সন্ধ্যায় বসল বিয়ের আসর। কনে ‘তিতলি সরকার পিউ’র মালাবদল হলো বর ‘তিষান সাহা’র সঙ্গে। তাদের ঘটকালির কাজটা করেছিলেন দুই ‘পরিবারের’ সদস্যরা। বিয়ের আসরে অতিথি ছিল এলাকার কচিকাঁচাসহ প্রায় ১০০ জন।

গত সোমবার রাতে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌর শহরের কাঁটাবাড়ী গ্রামে ছাদনাতলায় বিয়ে হয় ‘তিতলি’ আর ‘তিষান’-এর। এই বর-কনে আসলে দুই পুতুল। তবে বিয়েবাড়িতে ছিল জব্বর আয়োজন, খানাপিনা।

কনে তিতলিকে সম্প্রদান করলেন মা সাজা কাঁটাবাড়ী গ্রামের জি এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের এক ছাত্রী। পাত্রকে কোলে নিয়ে বসেছিলেন মা সাজা একই গ্রামের বাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক ছাত্রী।

দুই পুতুলের বিয়ের শুরুটা অবশ্য কয়েক দিন আগেই। দুই ছাত্রী খেলারছলে হঠাৎ করেই সিদ্ধান্ত নেয় তারা তাদের দুই পুতুলের বিয়ে দেবে। তারপর দুই বাড়ির সম্মতিতে পুতুলের বিয়ের এই আসর।

শুক্রবার আশীর্বাদ, রবিবার সকাল থেকেই রীতি মেনে হয়েছে অধিবাস, তারপর হলুদ কোটা, জল সইতে যাওয়া, বর-কনের গায়ে হলুদস্নানের পরে সোমবার রাতে ধুমধাম করে সানাইয়ের সুরে বিয়ের আসর।

কাঁটাবাড়ী গ্রামে এক ছাত্রীর বাড়িতে সাজানো হয় বিয়ের আসর, রাত সাড়ে ৯টায় মাইক্রোবাসে করে বাজনা নিয়ে কনে বাড়িতে আসে বরযাত্রী। বরযাত্রীদের বরণ করে কনেপক্ষ। ধর্মীয় আচার অনুযায়ী শেষ হয় বিয়ের কার্যক্রম।

এদিকে পুতুলের বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার কচিকাঁচা বালক-বালিকা, বৃদ্ধ ও মধ্যবয়সী নারীদের ভিড় জমতে থাকে বিয়ে বাড়িতে। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে।

তবে সমালোচনা করছেন সচেতন অভিভাবকসহ কেউ কেউ। তাঁরা বলছেন, পুতুলের বিয়ে শিশুদের খেলার মধ্যেই রাখা উচিত। তা নিয়ে ঘটা করে বিয়ের মতো আয়োজন করা এবং শিশুদের মা হিসেবে ব্যবহার করা বাল্যবিয়েকে উৎসাহিত করবে।

এ বিষয়ে মা সাজানো দুই ছাত্রীর অভিভাবকরা বলছেন, শৈশবের আনন্দ হিসেবেই এটি করা হয়েছে। দুই শিশুর আবদার মেটাতে তাঁরা বিয়ের আয়োজন করেছেন।

পুতুলের বিয়েতে সত্যিকার বিয়ের মতো আয়োজন করা এবং শিশুদের মা সাজানো বাল্যবিয়েকে উৎসাহিত করে কি না জানতে চাইলে উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা রিতা মণ্ডল বলেন, ‘আমরাও কখনো এভাবে ভেবে দেখিনি। তবে বিষয়টি ভেবে দেখার।’



সাতদিনের সেরা