kalerkantho

বুধবার । ৪ কার্তিক ১৪২৮। ২০ অক্টোবর ২০২১। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ট্রেনে ডাকাতের হাতে নিহত নাহিদ

সন্তান ও স্বামী হারার কান্না

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সন্তান ও স্বামী হারার কান্না

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের ফকিরপাড়া গ্রামের কলেজছাত্র নাহিদ হাসানের মা ও স্ত্রী। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘২২ বছর ধরে স্বামীর সংসার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বাবার বাড়িতে আছি। একমাত্র ছেলেটাকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছিলাম। সেই স্বপ্ন ভেঙে খানখান করে দিল খুনিরা।’ এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন আর কাঁদছিলেন নেকজাহান বেগম। ট্রেনে ডাকাতদলের হাতে নিহত জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের প্রত্যন্ত চরআম খাওয়া ইউনিয়নের ফকিরপাড়া গ্রামের কলেজছাত্র নাহিদ হাসানের বাড়িতে গতকাল রবিবার দেখা গেল এই চিত্র। মা নেকজাহান বেগমের মতোই কাঁদছেন নিহত নাহিদ হাসানের নববধূ বিপাশা খাতুন। মাত্র আট মাস আগে নাহিদের সঙ্গে বিয়ে হয় বিপাশা খাতুনের। তাঁর হাতের মেহেদির রং এখনো শুকায়নি। কিন্তু ঘাতক ডাকাতরা বিপাশার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে প্রিয় মানুষটাকে। আর তাঁর কান্নায় ভিজছে মেহেদির রং। বাড়িতে মা ও নববধূর বিলাপ আর কান্নায় পুরো ফকিরপাড়া গ্রামের মানুষ স্তব্ধ হয়ে আছে।

নিহতের পরিবার ও গ্রামবাসী জানায়, নাহিদ হাসান এ বছর ডিগ্রি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। গত শনিবার দেওয়ানগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল তাঁর। এ কারণে নববধূকে সঙ্গে নিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কর্মস্থল গাজীপুর থেকে দেওয়ানগঞ্জগামী কমিউটার ট্রেনে বাড়ি ফিরছিলেন। ট্রেনটি গফরগাঁও রেলস্টেশন ছাড়ার পর ছাদের ওপরে থাকা যাত্রীদের ওপর হামলা চালায় একদল সশস্ত্র ডাকাত। ডাকাতদলের হাতে ট্রেনের ছাদের ওপরই খুন হন নাহিদ হাসানসহ আরো একজন।

ট্রেন ডাকাতির ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নাহিদ হাসানের স্ত্রী বিপাশা খাতুন বলেন, ‘ট্রেনে প্রচুর যাত্রী ছিল। এ অবস্থায় আমাকে ছিটে বসিয়ে নাহিদ ছাদের ওপরে গিয়ে বসে। গফরগাঁও রেলস্টেশন পার হওয়ার পর ছাদের ওপর থেকে জানালা দিয়ে আমাকে ডাকে। এ সময় নাহিদ বলে, ছাদের ওপর ডাকাতরা তার মোবাইল ও টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নিয়েছে। আমি তখন তার হাত ধরে টেনে ছাদের ওপর থেকে নামতে বললাম। এরপর আর দেখা নেই। জামালপুর রেলস্টেশনে আসার পর জানতে পারি নাহিদ ডাকাতদের হাতে মারা গেছে। এখন আমি কাকে নিয়ে বাঁচব?’ বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন নববধূ বিপাশা খাতুন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা থেকে জামালপুরগামী কমিউটার ট্রেনের ছাদের ওপরে থাকা যাত্রীদের ওপর হামলা চালায় একদল ডাকাত। এ সময় বাধা দেন নাহিদ হাসান, হাফিজুর রহমান, রুবেলসহ পাঁচ-ছয়জন যাত্রী। এ সময় ডাকাতদের হাতে থাকা রড ও ছুরির আঘাতে ঘটনাস্থলে মারা যান নাহিদ ও হাফিজুর।

এ ঘটনায় গত শনিবার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন নিহত নাহিদ হাসানের মায়ের হাতে ২০ হাজার টাকা ও কিছু খাবার দেন। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের আরো সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়।



সাতদিনের সেরা