kalerkantho

মঙ্গলবার । ৩ কার্তিক ১৪২৮। ১৯ অক্টোবর ২০২১। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

টিকাই নেননি, পেলেন সনদ

‘গণটিকার রেজিস্ট্রেশন করা হলেও যাঁরা টিকা পাননি, এরই মধ্যে দ্বিতীয় ডোজের তারিখও পার হয়ে গেছে তাঁরা অটো সনদ পেয়েছেন’

আবদুল কাদির, পার্বতীপুর (দিনাজপুর)   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



টিকাই নেননি, পেলেন সনদ

প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ না নিয়েই টিকার সনদ পেয়েছেন অচনা রানী সরকার। সংগৃহীত

অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে চলছে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে কভিড-১৯-এর টিকাদান কার্যক্রম। টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ কোনোটিই পাননি—এমন ব্যক্তিও পেয়ে গেছেন সনদ।

কালের কণ্ঠ শুভসংঘ পার্বতীপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. ওমর আলী জানান, উত্তর রসুলপুর ভীমতিয়া গ্রামের বীরেন চন্দ্র সরকারের স্ত্রী অচনা রানী সরকার (৪৫) টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ না পাওয়া সত্ত্বেও গত ২২ সেপ্টেম্বর সনদ পেয়েছেন।

অচনার ছেলে সাগর সরকার জানান, তাঁর মায়ের কভিড-১৯ টিকা দান কার্ডের তথ্যানুযায়ী রেজিস্ট্রেশন হয়েছে ২২ সেপ্টেম্বর। কেন্দ্রের আইডি ২৭৪০৮০৪৬২। প্রথম ডোজ টিকা পাওয়ার তারিখ ছিল ৭ আগস্ট। আর দ্বিতীয় ডোজ টিকা প্রদানের তারিখ ছিল ৭ সেপ্টেম্বর। প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ টিকা না পেলেও গত ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা ৫৪ মিনিট সনদ উত্তোলনের জন্য তাঁকে এসএমএস করা হয়। ওই দিনেই সনদ সংগ্রহ করেন। তিনি বলেন, ‘শুধু আমার মা নন, আরো অনেকে রেজিস্ট্রেশন করে এসএমএস পাননি। একাধিকবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঘুরে এসএমএসের ব্যবস্থা করে টিকা নিয়েছেন।’

এসএমএসের ব্যবস্থা বিষয়ে জানতে চাইলে পশ্চিম শেরপুর গ্রামের মৃত আফছার আলীর ছেলে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘টিকা নিয়ে মানুষ নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। টাকা নিয়ে এসএমএস প্রাপ্তির অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।’

গত শনিবার দুপুর ১২টায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে কথা হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাফির সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘পার্বতীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত ১০ জুলাই সিনোফার্মের ৩৩ হাজার ৭০০ ডোজ টিকা আসে। এর আগে ৪ ফেব্রুয়ারি ২৫ হাজার ২৫০ ডোজ অক্সফোর্ডের টিকা আসে। এসব টিকা দ্রুতই শেষ হয়ে যায়। বর্তমানে সিনোফার্মের ১০ হাজার ডোজ টিকা দেওয়া হচ্ছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘টিকাপ্রাপ্তি সাপেক্ষে এসএমএস দেওয়া হয়। এসএমএস প্রদানের জন্য টাকা-পয়সা নেওয়া অথবা সনদ বিক্রির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যানবিদ মো. সেলিম বলেন, ‘১০টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় আট হাজার গণটিকা দেওয়া হয়েছে। এ সময় অনেকের রেজিস্ট্রেশন করা হলেও তাঁরা টিকা পাননি। এরই মধ্যে দ্বিতীয় ডোজের টিকা দেওয়ার তারিখও পার হয়ে গেছে। তাই তাঁরা অটো (স্বয়ংক্রিয়ভাবে) সনদ পেয়েছেন।’ তিনি জানান, যাঁরা এখনো এসএমএস পাননি, তাঁরা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এলে এসএমএস দেওয়ার পর তাঁদের প্রত্যেককে টিকা দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, এ উপজেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মারা গেছে ২৪ জন। শনাক্ত হয়েছে এক হাজার ১১৫ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছে এক হাজার ৭৯ জন। বর্তমানে ১২ জন করোনায় আক্রান্ত রোগী বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে।



সাতদিনের সেরা