kalerkantho

বুধবার । ৪ কার্তিক ১৪২৮। ২০ অক্টোবর ২০২১। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

নামমাত্র কাজে দুর্ভোগে ১৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

উলিপুরে পিইডিপি-৪ প্রকল্প

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কুড়িগ্রামের উলিপুরে প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি)-৪-এর সংস্কার-মেরামত প্রকল্পের কাজ এখনো শেষ হয়নি।

অভিযোগ পাওয়া গেছে, কোথাও কোথাও নামমাত্র কাজ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যোগসাজশ করে বরাদ্দের বেশির ভাগ টাকা তুলে ফেলেছেন বলে অভিযোগ। দরপত্র অনুযায়ী কাজ না করেও চূড়ান্ত কাজের প্রতিবেদন দিতে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলীর দাবি, ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। শিক্ষকরা মিথ্যা অভিযোগ করছেন। অন্যদিকে উপজেলা প্রকৌশলী বলছেন, কাজ এখনো শুরুই হয়নি।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ২০১৯-২০ অর্থবছরে পিইডিপি-৪-এর আওতায় উপজেলার ১৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংস্কার ও মেরামত প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ জন্য মোট ৯৩ লাখ আট হাজার ৪৫১ টাকা ব্যয় ধরা হয়। চাহিদা ও কাজ অনুযায়ী স্কুলগুলোর অনুকূলে বরাদ্দ দেয় প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়। দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে পাঁচটি প্যাকেজে চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করার দায়িত্ব পায়। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো লুৎফর রহমান কনস্ট্রাকশন, আরশি কনস্ট্রাকশন, বেলাল কনস্ট্রাকশন ও সিনথিয়া কনস্ট্রাকশন। এ ছাড়া উপজেলা শিক্ষা অফিস সংস্কার ও মেরামতের কাজ পেয়েছে ইসমাইল হোসেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

সম্প্রতি সরেজমিন স্কুলগুলোতে গিয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে, মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করছে না। ঠিকাদারের কাছ থেকে ২৫-৩১ শতাংশ কম দামে সাব-কন্ট্রাক্ট নিয়ে বিভিন্নজন কাজ করছেন। তাঁদের সঙ্গে যোগসাজশ দায়িত্বরত উপসহকারী প্রকৌশলী আতিয়ার রহমানের। নামমাত্র কাজ হলেও অভিযোগ করে লাভ হচ্ছে না।

বালাচর রামরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফরোজা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ঠিকমতো কাজ না করেও প্রত্যয়ন চাইছে ঠিকাদারের লোকজন। কাজ বুঝে নিয়ে প্রত্যয়ন দেবেন বললে তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এক সময় তাঁর প্রত্যয়ন ছাড়া বিল করা হবে জানিয়ে দেন ঠিকাদারের লোকজন।

যমুনা ব্যাপারীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরীফা বেগম বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সামান্য রিপেয়ারিং, সামথিং কালার পেয়েছি। সেটাও ভালোভাবে পাইনি। টিন লাগাচ্ছে না। বৃষ্টি এলে বাচ্চারা ভিজে যায়। টিন পরিবর্তনের খুবই প্রয়োজন।’ খালিভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা ফেরদৌসীর অভিযোগ, ‘নামমাত্র দুটি রুমসহ বারান্দার মেঝে ঢালাই করা হয়েছে। পানির ট্যাংক, হাত ধোয়ার বেসিন ও আটটি সিলিং ফ্যান দেওয়া হলেও তা নিম্নমানের। বৈদ্যুতিক ওয়ারিং করেনি। নিম্নমানের রং দিয়ে কোনোভাবে ভবন রং করেছে। মানহীন খোয়া দিয়ে ছাদের ওপর ঢালাই করা হয়। বৃষ্টির সময় পানি পড়ে।’

উলিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সোলায়মান মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ঠিকাদার, ইঞ্জিনিয়ারের পেছনে ঘুরতে ঘুরতে অবস্থা শেষ। স্কুলের চাল, বারান্দার টিন একবারেই জরাজীর্ণ।’ উপজেলা শিক্ষা অফিসে গিয়ে কর্মকর্তা নাদিরউজ্জামানকে পাওয়া যায়নি। দায়িত্বরত উপসহকারী প্রকৌশলী আতিয়ার রহমান বলেন, ‘এভারেজ (গড়ে) ৭০ শতাংশ কাজ হয়েছে।’ উপজেলা প্রকৌশলী কে কে এম সাদেকুল ইসলাম বলেন, ‘করোনায় কিছুদিন কাজ বন্ধ ছিল। এখন শুরু হচ্ছে।’ এ সময় বিল দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।



সাতদিনের সেরা