kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

মামলায় বন্ধ নির্মাণ ঝুঁকিতে শিশুরা

পটুয়াখালীর লতিফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

পটুয়াখালী প্রতিনিধি   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লতিফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। অর্ধশত বছরেরও বেশি পুরনো এই স্কুল পটুয়াখালী শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। গত বছর স্কুলটির নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। কিন্তু মামলা জটিলতায় আটকে আছে এই কাজ। এ অবস্থায় পাশের পুরনো ভবনটি হুমকির মুখে পড়েছে। ঝুঁকিতে আছে শিশুশিক্ষার্থীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৫ সালে ২৩ শতাংশ জমির ওপর লতিফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। আর সরকারি করা হয় ১৯৭৫ সালে। স্কুলটিতে শিশু থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হয়।

পুরনো ভবন, শ্রেণিকক্ষের সংকট—সব বিবেচনায় ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে স্কুলটির অনুকূলে চারতলা নতুন ভবন বরাদ্দ দেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এতে এক কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়। কিন্তু ভবনটি বরাদ্দ হওয়ার পরপরই স্কুল কমপ্লেক্সে জমি আছে বলে দাবি করেন পাশের বাসিন্দা আব্দুল মোতালেব। শুরু হয় দ্বন্দ্ব।

এ অবস্থায় প্রধান শিক্ষক স্কুলের সীমানা নির্ধারণ করে দিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সার্ভেয়ার নিয়ে সরেজমিনে গিয়ে সীমানা নির্ধারণ করে দেন। এ সময় মোতালেব সেখানে উপস্থিত ছিলেন। শুধু তা-ই নয়, নতুন সীমানায় সন্তোষও প্রকাশ করেন। এরপর গত বছরের মার্চ মাসে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেন ঠিকাদার। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যে স্কুল কমপ্লেক্সে নিজের জমি আছে বলে পটুয়াখালী সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন মোতালেব। এ অবস্থায় নির্মাণকাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত। এর পর থেকেই কাজ বন্ধ আছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্কুলটির সামনের মাঠে মাটির বিশাল স্তূপ। পাইলিংয়ের কাজ বন্ধ থাকায় পুরনো ভবনটি হুমকির মুখে আছে। নতুন ভবন নির্মাণের আগে তিন কক্ষবিশিষ্ট টিনশেড ভবন ভেঙে ফেলা হয়েছে। ফলে শ্রেণিকক্ষের সংকট আরো বেড়েছে। ‘এই মুহূর্তে’ ৪১৮ জন শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র চারটি শ্রেণিকক্ষ আছে।

কলেজ রোড এলাকার সালমা বেগম জানান, তাঁর মেয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ছে। কিন্তু যেভাবে বড় বড় গর্ত করে রাখা হয়েছে, নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখা হয়েছে তাতে সব শিক্ষার্থীই ঝুঁকিতে আছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে মেয়েকে আর স্কুলে পাঠাবেন না বলে ভাবছেন।

ঠিকাদার মো. রানা মিয়াা বলেন, ‘ভবন নির্মাণের জন্য রাখা রডগুলোতে মরিচা ধরেছে। অন্য নির্মাণসামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অথচ জমির ঝামেলা নেই। তবু মামলা হয়েছে।’

স্কুলের প্রধান শিক্ষক রাশেদা বেগম বলেন, ‘আসলে জমি নিয়ে কোনো জটিলতা নেই। এটা আব্দুল মোতালেব সাহেবের খামখেয়ালি।’ কথা বলতে মোতালেবের মোবাইল নম্বরে কল দেওয়া হয়। কিন্তু মামলাসংক্রান্ত প্রশ্ন শুনেই তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ছায়েদুজ্জামান বলেন, ‘আশা করছি, বাদী মামলা প্রত্যাহার করে নেবেন।’



সাতদিনের সেরা