kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ইঁদুর বন্যা

সীতাকুণ্ডে ফাঁদ কিংবা বিষেও সফল হচ্ছে না নিধন কার্যক্রম

সৌমিত্র চক্রবর্তী, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইঁদুর বন্যা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামে আউশ ধানের ক্ষেতে ইঁদুরের উপদ্রব। ইঁদুরের দল গাছ ও পাকা ধান কেটে সাবাড় করেছে। ফাঁদ পেতেও (ইনসেটে) ইঁদুর নিধন করতে পারেননি কৃষক কাজী নাজিম উদ্দিন। গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এবার আউশ ধানের ক্ষেতে ইঁদুরের উপদ্রব বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে। এবার প্রতিটি জমিতে আউশের বাম্পার ফলন হলেও তা গিলে খাচ্ছে ইঁদুরের দল! এতে দিশাহারা উপজেলার প্রায় ২০ হাজার কৃষক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ডে এবার আউশের বাম্পার ফলন হয়েছে। গত কয়েক মাসের নিরলস পরিশ্রমে সোনার ধান ফলানোর পর যখন কৃষকরা তা ঘরে তোলার অপেক্ষায়, ঠিক তখনই ক্ষেতে হানা দিয়েছে ইঁদুর।

ফলে বিঘার পর বিঘা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কৃষকদের ঘাম ঝরানো সোনার ফসল। এতে দিশাহারা হয়ে উঠেছেন স্থানীয় কৃষকরা। তাঁরা কৃষি কর্মকর্তাদের কাছে এর প্রতিকার দাবি করছেন। কৃষি কর্মকর্তারাও তাঁদের সাধ্যমতো পরামর্শ দিচ্ছেন, কিন্তু কোনো পরিকল্পনাতেই সফল হচ্ছে না ইঁদুর নিধন কার্যক্রম।

উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের কৃষক নাজিম উদ্দিন জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে আউশ ও আমন ধান চাষ করছেন। চলতি আউশ মৌসুমে তিনি ১৬০ শতাংশ জমিতে ধান চাষ করেছেন। কঠোর পরিশ্রমের ফলে এরই মধ্যে তাঁর ক্ষেত সোনালি আউশে ছেয়ে গেছে। ধানের বাম্পার ফলন দেখে যখন তিনি এই ফসল ঘরে তোলার স্বপ্ন দেখছিলেন, ঠিক তেখনই ইঁদুরের ভয়াবহ উপদ্রব দেখা দেয়। এরই মধ্যে ইঁদুরের ঝাঁক তাঁর ৩০-৩২ শতাংশ জমির ধান পুরোপুরি নষ্ট করে ফেলেছে! আগেও ইঁদুরের উপদ্রব হয়েছে। তবে তা কখনোই ভয়াবহ হয়ে ওঠেনি। ইঁদুর থেকে বাঁচতে বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবুল মুনছুরের কাছেও ছুটে গেছেন নাজিম উদ্দিন। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তাঁকে ক্ষেতে ফাঁদ পাততে বলেন। ফাঁদ পাতার পর একটি ইঁদুরও তাতে আটকা পড়েনি। শেষে ক্ষেতে বিষ দিয়েও তেমন কোনো ফল পাননি। ফলে চোখের সামনেই স্বপ্নের ফসল ইঁদুরের পেটে চলে যাওয়ায় দিশাহারা হয়ে পড়েছেন তিনি।

এদিকে কৃষক নাজিমের ক্ষেতে ইঁদুর ধরা না পড়লেও বারৈয়ারঢালা ইউনিয়নের কৃষক আবদুল হান্নানের ক্ষেতে পেতে রাখা ফাঁদে একে একে ১০টি বিশালাকার ইঁদুর ধরা পড়েছে।

এ ব্যাপারে কৃষক হান্নান বলেন, ‘প্রতিবছর আউশ চাষ করি। ক্ষেতে কমবেশি ইঁদুর আক্রমণ করেছে, কিন্তু এত বেশি ইঁদুরের উৎপাত আগে দেখিনি।’ তিনি আরো জানান, তাঁর জমির চারদিকে ইঁদুরের গর্ত। আর তাতে ঢুকে যাচ্ছে জমির বেশির ভাগ ধান।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এখানে প্রায় ছয় হাজার হেক্টর জমিতে ১৯ হাজার ৫০০ কৃষক আউশ ধান চাষ করেছেন। এর মধ্যে উফশী জাতের আউশ চার হাজার ২০০ হেক্টর, আর হাইব্রিড জাতের আউশ এক হাজার ৮০০ হেক্টর। এর মধ্যে ১০.৫ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত করেছে ইঁদুরের দল। প্রত্যেক কৃষকের জমিতে কমবেশি ইঁদুরের উপদ্রব হচ্ছে।

উপজেলার বাঁশবাড়িয়ায় সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবুল মুনছুর বলেন, ‘ইঁদুরের উপদ্রব থেকে বাঁচার উপায় জানতে অনেক কৃষক আমার কাছে এসেছিলেন। আমি তাঁদের ইঁদুর মারার ফাঁদ পাততে বলেছিলাম। ফাঁদে কাজ হচ্ছে না দেখে আবার বিষ প্রয়োগ করতে বলেছি। কিন্তু শুনেছি, তাতে তেমন কাজ হয়নি।’

উপজেলা উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আবদুল করিম বলেন, ‘আসলে ইঁদুর নিধনে আমাদের কোনো বরাদ্দ নেই। কৃষকরা নিজ প্রচেষ্টায় ইঁদুর মারার চেষ্টা করছেন। জমির আশপাশে আগাছা ও ঝোপঝাড়ের কারণে ইঁদুরের উৎপাত অনেকটা বেড়েছে। সেগুলো পরিষ্কার করলে ইঁদুরের উপদ্রব কিছুটা কমতে পারে।’



সাতদিনের সেরা