kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

গোয়ালঘরে মা-বাবা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



গোয়ালঘরে মা-বাবা

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জের দৌলতপুর ইউনিয়নের উত্তর বালুবাড়ী গ্রামে মা-বাবার ঠাঁই এখন গোয়ালঘরে। ছবি : কালের কণ্ঠ

নিজেদের জন্য কিছুই রাখেননি। বরং আদরের ছোট ছেলে স্কুলশিক্ষক গণেশ চন্দ্র বর্মণকে কোটি টাকার সম্পত্তি লিখে দিয়েছেন নগেন চন্দ্র বর্মণ ও বিজয়া বালা। অথচ মিলেছে অনাদার। শেষ বয়সে ঠাঁই হয়েছে গোয়ালঘরের বারান্দায়। সম্প্রতি ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জের দৌলতপুর ইউনিয়নের উত্তর বালুবাড়ী গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।

অভিযুক্ত গণেশ পাশের দিনাজপুরের বোচাগঞ্জের চেনগন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বলে জানা গেছে।

অভিযোগ সূত্রে যায়, নগেন ও বিজয়ার দম্পতির পাঁচ ছেলে-মেয়ে। তাঁদের মধ্যে চারজনই ছেলে। বেঁচে থাকতে নগেনের বাবা ভালোবেসে তিন নাতিকে প্রায় ৫০ বিঘা জমি লিখে দেন। কিন্তু দাদার মৃত্যুর পর গণেশের জন্ম হয়। ফলে তিনি দাদার কাছ থেকে কোনো সম্পত্তি পাননি। তাই নিজের দুটি বড় পুকুরসহ ১৪ বিঘা জমি ছোট ছেলে গণেশকে লিখে দেন নগেন। এর পর থেকে তিনি ও তাঁর স্ত্রী ছেলেদের বাড়িতে থাকতেন। কিন্তু ছেলেরা তাঁদের বোঝা মনে করে ভালো ব্যবহার করে না। বছরখানেক ধরে তাঁরা ছোট ছেলে গণেশের কাছে থাকছিলেন। কিন্তু গণেশ ও তাঁর স্ত্রী তাঁদের মেপে মেপে ভাত খেতে দিতেন। গেল সাত দিনে তা-ও দেয়নি। সর্বশেষ গত শনিবার মা-বাবাকে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। বাধ্য হয়ে পাশের গোয়ালঘরের বারান্দায় আশ্রয় নেন তাঁরা। এ অবস্থায় পাড়া-প্রতিবেশীর কাছ থেকে ধারদেনা করে খাচ্ছেন। 

আক্ষেপের সুরে নগেন জানান, নিজেদের সব সম্পত্তি সন্তানদের দিয়ে দেওয়ার কারণে শেষ বয়সে তাঁদের এই করুণ পরিণতি। একই কথা বলেন নগেনের স্ত্রী বিজয়াও।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্কুলশিক্ষক গণেশ। তাঁর মতে, বিষয়টি একান্ত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক।

দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কার্তিক চন্দ্র রায় বলেন, ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে সমাজের প্রতিটি পরিবারেই এমন ঘটনা ঘটছে। এ বিষয়ে বৃদ্ধ নগেন অভিযোগ করেছিলেন। বিষয়টি সমাধানে (তাঁর) ছেলেদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন।’



সাতদিনের সেরা