kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

দুদকের জালে কোটিপতি চেয়ারম্যান

হাতিয়াড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান দেবদুলাল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দুদকের জালে কোটিপতি চেয়ারম্যান

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার হাতিয়াড়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান দেবদুলাল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়নের জনগণ বিভিন্ন প্রকল্পের এক কোটি ৬৪ লাখ টাকা আত্মসাতের ফিরিস্তি তুলো ধরে গত ২৯ ডিসেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি আবেদন করে। এই আবেদনে আরো প্রায় দেড় কোটি টাকার জমি কেনার অভিযোগ করা হয়েছে। গত বুধবার দুদক এ বিষয়ে অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছে।

গত ৫ জানুয়ারি কমিশন আবেদনটি গ্রহণ করে। দুদক দৈনিক ও সাম্প্রতিক অভিযোগ সেলের পরিচালক উত্তম কুমার মণ্ডল স্বাক্ষরিত একটি পত্রে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহপূর্বক প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিবেদন পাঠানোর জন্য গোয়েন্দা কর্মকর্তা সাজেকা, ফরিদপুর বরাবর পাঠানোর জন্য সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ভুক্তভোগী জনগণের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে পাথরগ্রাম পূর্বপাড়া হতে পশ্চিমপাড়া পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার মাটির রাস্তা নির্মাণের জন্য ৩৪ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। সেখানে সাড়ে ৭০০ মিটার রাস্তা নির্মাণ করে ২২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। কাবিখা-কাবিটা প্রকল্পের কোনো কাজ না করে তিন লাখ টাকা, সংসদ সদস্যের বিশেষ বরাদ্দের পাঁচ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ইউনিয়ন পরিষদের ১ শতাংশ টাকা দিয়ে কোনো প্রকল্প বা কাজ না করে ১৫ লাখ টাকা, বয়স্ক বিধবা প্রতিবন্ধী ভাতা ভোগীদের কাছ থেকে পাঁচ হাজার করে অন্তত আট লাখ টাকা, ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে রাহুথর হাট-বাজার উন্নয়নমূলক কাজের বরাদ্দ ১৫ লাখ টাকা, এলজিএসপি প্রকল্পের ৩০ লাখ টাকা, নলকূপ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ১৫ হাজার করে ১০ লাখ টাকা, ভূমিহীনদের সরকারি ঘর পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ২০ হাজার করে মোট ২০ লাখ টাকা, ২০২০-২১ অর্থবছরে এলজিএসপি প্রকল্পের উন্নয়নমূলক কাজ না করে ১১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ ছাড়া রাহুথর অমৃতময়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ফুলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরী-কাম-দপ্তরি নিয়োগ দিয়ে ২০ লাখ টাকা হাতিয়েছেন।

অভিযোগে আরো জানানো হয়েছে, দেবদুলাল চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে পুইশুর, হাতিয়াড়া, নারান্দিয়া, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সাতপাড়া ও মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় (শ্বশুরবাড়ি) নিজনাম, স্ত্রী এবং শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়-স্বজনের নামে অন্তত ৩০ একর জমি কিনেছেন। যার বাজারমূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা। এ ছাড়া চেয়ারম্যান তাঁর স্ত্রী নন্দিতা বিশ্বাসের নামে তাঁর বাবার বাড়ির ঠিকানায় টেকেরহাট, রাজৈর উপজেলার জনতা, অগ্রণী, সোনালী ও রূপালী ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাবে অন্তত ৫০ লাখ এবং শ্বশুর, শাশুড়ি, শ্যালক ও শ্যালকের স্ত্রীর নামে আরো অন্তত ৫০ লাখ টাকা জমা রেখেছেন। এসব অভিযোগ সরেজমিনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এলাকাবাসী।

হাতিয়ারা ইউপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সন্তোষ কুমার মণ্ডল বলেন, ‘পছন্দের সদস্যদের দিয়ে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ কোনোমতে করিয়ে বিল ভাগাভাগি করেন চেয়ারম্যান। প্রতিবাদ করায় আমার ওয়ার্ডে কোনো কাজ দেন না। যে অভিযোগ উঠেছে এর সুষ্ঠু তদন্ত হলে সত্যতা পাওয়া যাবে।’

সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্য চন্দ্রা সিকদার ও সমীর বর বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের কিছু বলার নেই। সময় তো শেষ। বলেই বা কী হবে। ভালো-মন্দ দুটিই আছে।’

চেয়ারম্যান দেবদুলাল বিশ্বাস বলেন, ‘এটা আমার বিরুদ্ধে ১২তম অভিযোগ। একই অভিযোগ আগে ১১ বার দিয়েছে। এর একটা অভিযোগও সত্য নয়। তবে আমার একটা দাবি, যারা অভিযোগগুলো করছে তারা বেনামে না করে নাম দিয়ে অভিযোগ করুক। আমাকে হয়রানি করতে এবং ভোটারদের কাছে খারাপ বানাতে এই পথ বেছে নিয়েছে।’

কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রথীন্দ্রনাথ রায় বলেন, ‘সরকারি বরাদ্দ যথাযথ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে হয়ে থাকে। এখানে বড় ধরনের অনিয়ম করার সুযোগ নেই। আমার ১৩ মাসের দায়িত্বকালে এই ধরনের কোনো অনিয়ম চোখে পড়েনি বা কেউ অভিযোগও করেনি।’



সাতদিনের সেরা