kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সৌদিতে বয়লার বিস্ফোরণে নিহত বাংলাদেশি

টিকিটটি তাঁর কাটা ছিল...

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



টিকিটটি তাঁর কাটা ছিল...

সৌদিপ্রবাসী সোহেল সিকদারের নিহত হওয়ার খবরে পরিবারের সদস্যদের কান্না। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘চিঠিটা তার পকেটে ছিল/ছেঁড়া আর রক্তে ভেজা’—কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর সেই পঙক্তির মতোই উড়োজাহাজের টিকিটটি তাঁর কাটা ছিল; কিন্তু দেশে ফেরা হলো না সোহেল সিকদারের (৩২)। তাঁর জন্য দেশে অপেক্ষায় স্ত্রী রুবিনা, ছেলে আবদুল্লাহ ও এক বছরের মেয়ে জান্নাত।       

জান্নাত জন্মের পর এই প্রথম দেশে আসার কথা ছিল সৌদি আরব প্রবাসী সোহেলের। পাঁচ দিন পর ২৫ সেপ্টেম্বর ফ্লাইট। অথচ শেষ কর্মদিবসে শেষবিদায় হলো তাঁর। মেয়ে জান্নাত ও ছেলে আবদুল্লাহকে বুকে জড়িয়ে তাই গগনবিদারী আর্তনাদে আকাশ-বাতাস ভারী করে তুলছেন স্ত্রী রুবিনা।

সৌদি আরবের আল কাসিমে ফ্যাব্রিকেশনের বয়লার বিস্ফোরণে শিবচরের সোহেল সিকদার নিহত হওয়ার পর পরিবারজুড়ে এখন শোকের মাতম। এ দুর্ঘটনায় সোহেলসহ চারজন নিহত হয়েছেন। গত রবিবার বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে। নিহত বাকিরা অন্য দেশের নাগরিক।

নিহত সোহেল শিবচর উপজেলার পাচ্চর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের রাজ্জাক সিকদারের ছেলে। সোহেলের স্ত্রী রুবিনা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘মেয়েটা ফোনে বাবা বাবা বলত। ছেলেটা বাবার কাছে কত কিছু আবদার করেছিল। বাবা এইটা আনতে হবে, ওইটা আনতে হবে। ওর বাবাও সব কিছু কিনছিল। মাত্র পাঁচ দিন পরই বাড়িতে আসার কথা ছিল। কী থেকে কী হয়ে গেল।’ বলেই গগনবিদারী আর্তনাদে ফেটে পড়েন তিনি।

সৌদি আরব থেকে মোবাইল ফোনে সোহেলের পরিচিত মো. শাহালম জানান, এ দুর্ঘটনায় সোহেল, লেবাননের মালিকসহ দুজন ও মিসরের একজন মারা গেছেন। বর্তমানে সোহেলের লাশ সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে রাখা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা