kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৯ ডিসেম্বর ২০২১। ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

মরণফাঁদ ক্রসিং

সীতাকুণ্ডে শতাধিক অবৈধ লেভেলক্রসিংয়ে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মরণফাঁদ ক্রসিং

সীতাকুণ্ড পৌরসভার ইয়াকুবনগর এলাকায় লেভেলক্রসিং পার হচ্ছিল একটি পিকআপ। হঠাৎ সেখানে এসে পড়ে ঢাকামুখী ট্রেন সোনার বাংলা এক্সপ্রেস। ফলে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দ্রুতগামী সোনার বাংলা এক্সপ্রেস পিকআপটিকে টেনে নিয়ে যায় আরো আধাকিলোমিটার দূরে। তবে সৌভাগ্যবশত পিকআপের চালক লাফিয়ে নেমে পড়ে প্রাণে বেঁচে যান। অল্পের জন্য লাইনচ্যুত হয়নি ট্রেনটি। তাহলে হতে পারত বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা। ঘটনাটি গত ৩০ আগস্টের। অবৈধ ওই লেভেলক্রসিংয়ে কোনো গেটম্যান না থাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় এ ধরনের অবৈধ লেভেলক্রসিংয়ের সংখ্যা শতাধিক। এসব ক্রসিংয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটলেও সেগুলো সুরক্ষিত করার তেমন কোনো উদ্যোগ নেই। ফলে এগুলো এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে সীতাকুণ্ড উপজেলার শেষ সীমানা বারৈয়াঢালা পর্যন্ত ৩৮ কিলোমিটার রেলপথ এলাকায় শতাধিক অবৈধ লেভেলক্রসিং রয়েছে। কোথাও এলাকার মানুষ নিজ নিজ গ্রাম বা পাড়ায় যাতায়াতের সুবিধার্থে রেললাইন পারাপার হতে হতে ক্রসিং তৈরি করেছে। আবার কোথাও রেললাইনের পূর্ব বা পশ্চিমে শিল্প বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলায় মানুষের যাতায়াতে এমন অরক্ষিত লেভেলক্রসিং তৈরি হয়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, পুরো উপজেলাতেই রেললাইনের আশপাশে প্রচুর অবৈধ লেভেলক্রসিং রয়েছে। উপজেলার বড়দারোগারহাট ফুলগাজী গ্রাম, বারৈয়াঢালার বারৈয়াপাড়া বাজার, পৌরসভার ইয়াকুবনগর, ফকিরহাট নলুয়াপাড়া, বাঁশবাড়িয়া রাবার বাগান, সোনাইছড়ি, কদমরসুল, মাদামবিবিরহাট, ভাটিয়ারী, ফৌজদারহাট, সলিমপুর প্রভৃতি এলাকায় অবৈধ ক্রসিংয়ের ছড়াছড়ি। কোনো নিয়মের তোয়াক্কা না করে এসব ক্রসিং দিয়ে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন রকম যানবাহন চলাচল করে। এসব কারণে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

এলাকাবাসী জানায়, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ইয়াকুবনগরের দুর্ঘটনার আগেও এই ক্রসিংয়ে আরো অনেকবার ট্রেনের সঙ্গে যানবাহনের সংঘর্ষ হয়। একইভাবে এসকেএম এলাকায়, ফকিরহাট ইকোপার্ক, নলুয়াপাড়াসহ বিভিন্ন ক্রসিংয়ে বারবার ট্রেনের সঙ্গে যানবাহনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। অবৈধভাবে চলাচল করতে গিয়ে কাটা পড়ে মারা গেছে অনেক মানুষ। তবুও নেই কোনো সচেতনতা।

ইয়াকুবনগরের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এই রেলক্রসিংটির উভয় পাশে পাঁচ হাজারেরও বেশি পরিবার আছে। আছে হাঁস-মুরগি খামারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। তাই মানুষ আসা-যাওয়া করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়।’

সীতাকুণ্ড সদর রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. মোতাহের বলেন, ‘এ ধরনের লেভেলক্রসিং কতগুলো আছে—তার হিসাব নেই। আমরা শুধু বৈধ রেলগেট পরিচালনা করি।’ সীতাকুণ্ড জিআরপি ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘সীতাকুণ্ডে এ রকম লেভেলক্রসিং আছে অসংখ্য। ক্রসিংগুলোতে হঠাৎ কোনো গাড়ি উঠে পড়ে। চলে আসে মানুষও, কিন্তু ট্রেনের তো যেখানে-সেখানে দাঁড়ানোর উপায় নেই। তাই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটেই চলছে।’



সাতদিনের সেরা