kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ভবদহের দুঃখ রয়েই গেল

মণিরামপুরে মাসে ১৭ লাখ টাকা ব্যয়, ছিদ্র থাকায় সুফল অধরা

মোহাম্মদ বাবুল আকতার, মণিরামপুর (যশোর)   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভবদহের দুঃখ রয়েই গেল

যশোর-খুলনার দুঃখ ভবদহের স্থায়ী জলাবদ্ধতা। ভুক্তভোগীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সেই জলাবদ্ধতা নিরসনে বিএডিসি ও পাউবো যৌথ উদ্যোগে সেচ কার্যক্রম শুরু করে। কিন্তু মাসে লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে ভবদহ স্লুইচ গেট দিয়ে সেচ পাম্পের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন কার্যক্রম কোনো সুফল বয়ে আনতে পারেনি। বরং বিলে পানি না থাকায় গত বছরের তুলনায় এবার বোরো মৌসুমে ধানের আবাদ আরো কমে গেছে। এখনো অন্তত ২০ গ্রামের লাখো মানুষ পানিবন্দি। এর ফলে ব্যয়বহুল এই সেচ প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্লুইচ গেটের তল দিয়ে পানি লিকেজ হওয়ায় কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। বিষয়টি বিএডিসি কর্মকর্তারা একাধিকবার পাউবোর কর্মকর্তাদের জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সম্প্রতি কৃষিসচিব, বিএডিসি চেয়ারম্যান, খুলনা বিভাগীয় প্রধানসহ (সেচ প্রকল্প) সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ভবদহ এলাকায় পরিদর্শন করেন এবং লিকেজের বিষয়টি ধরা পড়ে। এ নিয়ে যশোর সার্কিট হাউসে কৃষিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এক সভায় পাউবোকে লিকেজের বিষয়টি দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এদিকে পাউবো সূত্রে জানা যায়, ভবদহ ও এর আশপাশের বিলে ফসল ফলাতে ও পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ কমাতে পাউবো (পানি উন্নয়ন বোর্ড) ও বিএডিসির (বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন) যৌথ উদ্যোগে চলতি বছরের শুরুতেই সেচ কার্যক্রম শুরু হয়।

বিএডিসির খুলনা বিভাগীয় প্রধান (সেচ বিভাগ) আব্দুল্লাহ আল রশিদ জানান, এই অঞ্চলের বিলে ফসল ফলাতে ও মানুষের দুর্ভোগ কমাতে পাউবোকে বিএডিসি ৩০ এইচপি (হর্সপাওয়ার) পাওয়ারের ২০টি পাম্প সরবরাহ করে। এগুলো রক্ষণাবেক্ষণে বিএডিসির আটজন শ্রমিকসহ একজন উপপ্রকৌশলী সেখানে সার্বক্ষণিক দেখভাল করে থাকেন। কিন্তু লিকেজ দৃষ্টিগোচর হওয়ায় তা পাউবোকে অবহিত করা হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

গত ১১ সেপ্টেম্বর কৃষিসচিব মেজবাহুল ইসলাম, বিএডিসির চেয়ারম্যান ড. অমিতাভ সরকার সরেজমিন পরিদর্শনে এলে লিকেজের বিষয়টি তাঁদেরও দৃষ্টিগোচর হয়। গত ১২ সেপ্টেম্বর যশোর সার্কিট হাউসে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের উপস্থিতিতে এক সভায় পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীকে লিকেজের বিষয়টি দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেওয়া হয়।

যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর ডিজিএম (কারিগরি) আবু হেনা শফিক কামাল জানান, পাউবোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সেচ পাম্প কার্যক্রম চালাতে গত ৪ জানুয়ারি ২০টি সংযোগ দেওয়া হয়। পাম্প চালাতে ৭০০ কেভিএ ট্রান্সফরমার বসাতে কনস্ট্রাকশন ব্যয় হয় সাত লাখ ৬০ হাজার টাকা। তা ছাড়া ট্রান্সফরমারের জন্য ব্যয় হয় আরো প্রায় ২৫ লাখ টাকা। পুরো ব্যয় সমিতির পক্ষে করা হয়েছে। এ ছাড়া পাউবো প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে প্রায় ১৪ লাখ টাকা।

ভুক্তভোগী কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিএডিসির আট শ্রমিকের জন্য প্রতিদিন চার হাজার টাকা ব্যয়সহ সেচ পাম্পে নির্বিঘ্নে পানি সরবরাহে পাউবোর আওতায় প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে টেকা নদী খনন করা হচ্ছে। কিন্তু এত কর্মযজ্ঞের পরও এই সেচ কার্যক্রম এ অঞ্চলের মানুষের উপকারে আসেনি। গতবারের চেয়ে এবার বোরো মৌসুমে ভবদহসংলগ্ন বিলগুলোতে ধানের আবাদ কমেছে।

ভবদহ পানি সংগ্রাম কমিটির নেতা কমরেড আব্দুল হামিদ বলেন, সম্প্রতি ভবদহসংলগ্ন ৩০ গ্রামের মানুষের সঙ্গে এক সভায় উপস্থিত একজনও বলেনি সেচ পাম্পে পানি নিষ্কাশনে উপকৃত হয়েছে।

বাজেকুলটিয়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক পরমানন্দ রায় বলেন, বাজেকুলটিয়া, হাটগাছা, ডহর মশিয়াহাটি, সুন্দলী, আন্দা, ডুমুরতলা, বেবভিটাসহ কমপক্ষে ২০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি রয়েছে।

মণিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবুল হাসান জানান, গত বোরো মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ২৯ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়। ভবদহসংলগ্ন পাঁচটি বিলের প্রায় ৪০০ হেক্টর জমিতে এবার বোরো ধানের আবাদ কমে গেছে।

এ ব্যাপারে পাউবো যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহীদুল ইসলাম বলেন, লিকেজ একটু হচ্ছে, কিন্তু তা বন্ধে নানা রকম উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।



সাতদিনের সেরা