kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ভিক্ষুকের ‘রাজমহল’

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ভিক্ষুকের ‘রাজমহল’

কতটা অভীষ্ট থাকলে ২০ বছর ধরে মানুষ তিলে তিলে গড়তে পারে এমন দোতলা বাড়ি? গতকাল চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার ডুগডুগি ইউনিয়ন পরিষদের পাশে। ছবি : কালের কণ্ঠ

দোতলা ঘরে শুয়ে থাকবেন—এই ছিল স্বপ্ন। জমি নেই, ঘর নেই, ভিক্ষা করে চলে সংসার। এমন সর্বহারা মানুষ চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার রহমত আলী ওরফে নমেন আলী। কিন্তু এর কোনোটিই তাঁর স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।

কুড়িয়ে আনা ইট, সারা দিন মানুষের কাছে হাত পেতে আনা টাকা জমিয়ে কেনা সিমেন্ট, সন্ধ্যায় তা মিশিয়ে নিজ হাতে গড়ার কাজ। ২০ বছর ধরে একটু একটু করে শ্রম দিয়েছেন। এরই মধ্যে স্ত্রী মারা গিয়েছেন। ছেলে বড় হয়ে দিনমজুরি করে আলাদা সংসার পেতেছে। কিন্তু এসবে দমে যাননি রহমত। আজ তাঁর স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।

রহমত জানান, তিনি ৩০ বছর ধরে চুয়াডাঙ্গা-জীবননগর মহাসড়কের দামুড়হুদা উপজেলার ডুগডুগি ইউনিয়ন পরিষদ ও পশুহাটের অদূরে সড়ক বিভাগের জমির ওপর একটি ঝুপড়িঘরে বাস করছেন। ঝড়-বৃষ্টিতে বিভিন্ন সময় সমস্যায় পড়তে হতো। এমন অবস্থায় ২০০০ সালে তিনি সেখানে নিজের হাতে ইটের গাঁথুনি দিয়ে থাকার মতো ছোট একটি পাকাঘর তৈরি করেন। তখন থেকে তাঁর পরিকল্পনা, ওই ঘরের ওপরে আরো একটি ঘর বানানোর। সেই সময় থেকে সারা দিনের ভিক্ষাবৃত্তির অর্থ দিয়ে কিছু কিছু ইট, সিমেন্ট ও বালু কিনতেন। আর প্রতিদিন বিকেলে একটু একটু করে গাঁথুনির কাজ করতেন। ২০ বছর পর এখন নিচতলায় দুটি কক্ষ ও ওপরে এক কক্ষের ঘর তৈরি হয়েছে। নিচে দুটি ঘরের একটিতে থাকেন তিনি। থাকার ঘরের মেঝে ও দেয়ালে টাইলস বসানো, পরিপাটি। তবে পাশের ও ওপরের ঘরগুলো দেখা সম্ভব হয়নি। তিনি সেগুলো দেখাতে নারাজ।

হাউলি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দীন বলেন, দোতলা ঘরে বসবাস করার স্বপ্ন ছিল। তাঁর সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। বিভিন্ন সময় সড়ক বিভাগ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলে ঘরের ওপর উঠে বসে থাকতেন। তাঁকে নামানো যেত না।



সাতদিনের সেরা