kalerkantho

রবিবার । ১ কার্তিক ১৪২৮। ১৭ অক্টোবর ২০২১। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

তদন্ত প্রতিবেদনের ময়নাতদন্ত

বাগাতিপাড়া

রেজাউল করিম রেজা, নাটোর   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তদন্ত প্রতিবেদনের ময়নাতদন্ত

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রতন কুমার সাহার বিরুদ্ধে ১৭ লাখ টাকা আত্মসাতের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তথ্য অধিকার আইন প্রয়োগ

ভুয়া ভাউচারে টাকা উত্তোলনের ঘটনায় গত ২৪ জুলাই ‘স্বাস্থ্যকর্তার পকেটে টিকার টাকা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে কালের কণ্ঠ। এর পরিপ্রেক্ষিতে সিভিল সার্জন তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির সভাপতি করা হয় নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট (সার্জারি) মো. আরশাদ আলীকে, সিভিল সার্জন দপ্তরের চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. রাসেল এবং বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আশাদুজ্জামান জামানকে সদস্য করা হয়। কমিটি গত ৫ আগস্ট প্রতিবেদন জমা দেয়। এই প্রতিবেদক তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো সহযোগিতা করা হয়নি। পরে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করে ২৬ আগস্ট প্রতিবেদন সংগ্রহ করা হয়।

তদন্তে ফাঁক-ফোকর

তদন্ত প্রতিবেদন ঘেঁটে নানা ফাঁক-ফোকর দেখা গেছে। কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে কমিটি বলেছে, ইউনিয়ন পর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম না চললেও টিকাগ্রহণকারীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা-যাওয়ার খরচ দেওয়া হয়েছে। জনসাধারণকে টিকাগ্রহণে উৎসাহী করাসহ টিকা-পরবর্তী জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে কি না, তা যাচাই ও সেবা দেওয়ার জন্য কর্মকর্তারা কাজ করেছেন। এ জন্য আপ্যায়ন খরচ ১০ লাখ টাকা, সম্মানী ভাতা এবং ডিস্ট্রিবিউট পয়েন্ট পর্যন্ত ভ্যাকসিন ও লজিস্টিক পরিবহন ব্যয়, ভিজিট ব্যয়, স্বাস্থ্য বিধান সামগ্রী ব্যয়, অনিয়মিত শ্রমিকদের খরচ এবং অংশগ্রহণকারীদের সম্মানী ভাতা উত্তোলন করা হলেও তদন্ত কমিটি সে বিষয়ে উল্লেখ করেনি।

প্রতিবেদনে যেসব বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, সরেজমিনে তার বেশির ভাগেরই সত্যতা পাওয়া যায়নি। কর্মকর্তাদের সামনে সংশ্লিষ্ট সবাই স্বীকার করেছেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে কোনো প্রশিক্ষণ বা টিকা দেওয়া হয়নি। তাহলে আপ্যায়ন ও সম্মানী ভাতা এবং লজিস্টিক সাপোর্ট ও পরিবহন ব্যয়ের প্রশ্নই আসে না।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে, ইউনিয়ন পর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি। অথচ উপজেলা হতে ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিস্ট্রিবিউশন পয়েন্টে ভ্যাকসিন, লজিস্টিক পরিবহন ব্যয় বাবদ এক লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ের বিল দাখিল করা হয়েছে।

খরচের কথা জানেন না টিকাগ্রহীতারা

এই প্রতিবেদক টিকাগ্রহীতা কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন। বাগাতিপাড়া উপজেলার চকপাড়া গ্রামের আব্দুল মজিদ, জিগরী গ্রামের আনোয়ার হোসেন অপু, আকতার হোসেন, নুরপুর চকপাড়ার খেজেরে আলী জানান, কোনো স্বাস্থ্যকর্মী তাঁদের টিকাকেন্দ্রে যাওয়া-আসার খরচ দেননি। এ বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানেন না।

এমনকি টিকাদান সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য কোনো স্বেচ্ছাসেবী দল তৈরি করা হয়নি। দয়ারামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমার ইউনিয়ন এলাকায় টিকার প্রশিক্ষণের কোনো কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়নি।’

একই কথা জানান বাগাতিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান, ফাগুয়ারদুয়ার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ জহুরুল ইসলাম এবং জামনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস।

বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানান, তদন্ত কমিটি গঠন করার পর তাঁরা সম্মানীর টাকা পেয়েছেন।

পর্যবেক্ষণ

প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণ ও মতামতে এক লাখ ৪৪ হাজার টাকা উত্তোলন কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয় এবং খাতভিত্তিক অন্যান্য ব্যয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নীতিমালা অনুযায়ী সঠিক নয় বলে উল্লেখ করা রয়েছে।

কমিটির বক্তব্য

এসব বিষয়ে তদন্ত কমিটির সদস্যসচিব মো. রাসেল জানান, যেহেতুে তাঁরা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে টিকাগ্রহীতাদের নিয়ে এসেছেন এবং টিকাগ্রহণের পরবর্তী জটিলতা নিরসনে পর্যবেক্ষণ ও সেবা দিয়েছেন সে কারণে এবং সুনির্দিষ্টভাবে সম্মানী গ্রহণের বিষয়টি উল্লেখ না থাকায় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। প্রশিক্ষণ না দিয়ে আপ্যায়ন বিল উত্তোলন বিধিসম্মত কি না, প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমাদের পর্যবেক্ষণে তা উল্লেখ করেছি।’



সাতদিনের সেরা