kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সেতু ভাঙার এক মাস বন্ধ খাল, বাণিজ্যও

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সেতু ভাঙার এক মাস বন্ধ খাল, বাণিজ্যও

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা সদরের রায়েন্দা খালের এই সেতু গত ১৭ আগস্ট ভেঙে পড়ে। এক মাস হতে চললেও তা অপসারণ করা হয়নি। গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার রায়েন্দা খালের সেতু এক মাস আগে ভেঙে পড়ে। এটি অপসারণ না করায় বন্ধ রয়েছে খালটির একাংশের যোগাযোগ। পণ্যবাহী কোনো নৌযানও চলাচল করতে পারছে না। এতে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে এই খালের ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠা ব্যবসা-বাণিজ্য।

গত ১৭ আগস্ট ভোরে উপজেলা সদরে ১৯৯৬ সালে নির্মিত লোহার পিলার ও আরসিসি ঢালাইয়ের এই সেতু হঠাৎ ভেঙে পড়ে। পিলারগুলোর নিচ থেকে ক্ষয় হয়ে যাওয়ায় এক বছর আগে সেতুটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে এলজিইডি। পরে পাশে বিকল্প একটি কাঠের পুল নির্মাণ করা হয়। এর পরও রায়েন্দা ও খোন্তাকাটা ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে এই পরিত্যক্ত সেতু দিয়েই চলাচল করে আসছিল। বর্তমানে কাঠের পুল দিয়ে এত মানুষের চলাচলের কারণে সেটিরও নড়বড়ে অবস্থা। এই পুলটিও যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে। তাই দ্রুত এই স্থানে একটি পূর্ণাঙ্গ সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খালের পশ্চিম পাশে গড়ে উঠেছে নদীনির্ভর বেশির ভাগ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এই অংশে রয়েছে সরকারি খাদ্যগুদাম, একটি বরফ কল, কমপক্ষে ২০টি নির্মাণ সামগ্রীর দোকান এবং অর্ধশতাধিক  ইট, বালুর গোলা। সেতু ভেঙে পড়ে থাকায় খালের গুরুত্বপূর্ণ ওই অংশটি একেবারে অবরুদ্ধ হয়ে আছে। ফলে পণ্যসামগ্রী ঠিকমতো আনা-নেওয়া করতে না পারায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

মেসার্স মেঘা বরফ কলের মালিক মো. গোলাম মোস্তফা তালুকদার জানান, ইলিশের ভরা মৌসুম চলছে। সেতুটি ভেঙে পড়ায় পুরো খাল বন্ধ। তাঁর বরফ কলটিও ভেতরে আটকা পড়েছে। ছোটখাটো দু-একটি মাছ ধরা নৌকা ছাড়া বড় কোনো ফিশিং ট্রলার ঢুকতে পারছে না। এতে বরফ উৎপাদনও বন্ধ হয়ে গেছে। এক মাসে কয়েক লাখ টাকা লোকসানে পড়তে হয়েছে। শেষ দিকের ইলিশ মৌসুমটাই মাটি হয়ে গেল তাঁর।

নির্মাণসামগ্রী ব্যবসায়ী মো. মোস্তফা তালুকদার, জামাল আকন ও হাবিব মুন্সী জানান, তাঁরা মোকাম থেকে ইট, বালু, সিমেন্ট নৌপথে আনা-নেওয়া করেন। সেতুর কারণে এসব পণ্যের কার্গো ঢুকতে পারছে না। ভাঙা সেতু দ্রুত অপসারণ করা না হলে তাঁদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে।

রায়েন্দা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বিশ্বাস জানান, সেতু ভেঙে খাল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে খাদ্যগুদামের ঘাটে বড় কোনো বার্জ আসতে পারছে না।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাতুনে জান্নাত বলেন, ‘সেতু অপসারণের দায়িত্ব এলজিইডির। মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে এরই মধ্যে কয়েকবার সভা করে তাদের এটি সরাতে বলা হয়েছে, কিন্তু তারা কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না।’

উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মতিন বলেন, ‘প্রথম দিকে এলজিইডির খরচে স্থানীয়দের মাধ্যমে এটি ভেঙে সরানোর চেষ্টা করা হয়, কিন্তু তাতে অতিরিক্ত খরচ পড়ায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তা বন্ধ রাখা হয়েছে। দরপত্রের মাধ্যমে এটি দ্রুত অপসারণ করা হবে।’



সাতদিনের সেরা