kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ আশ্বিন ১৪২৮। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৫ সফর ১৪৪৩

মাটি কাটেন শিক্ষক

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি   

৬ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার নন-এমপিও দৈ খাওয়ার চর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম। করোনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে চরম বিপাকে পড়েন তিনি। সম্প্রতি তিনি সরকারের কর্মসৃজন কর্মসূচি প্রকল্পে মাটি কাটার কাজও করেছেন।

নুরুল ইসলাম জানান, ব্রহ্মপুত্র নদ বিচ্ছিন্ন সাহেবের আলগা ইউনিয়নে ১০ জন শিক্ষক নিয়ে ওই বিদ্যালয় গড়ে তোলেন। তখন থেকে বিগত ৯ বছর এসব শিক্ষক বিনা বেতনে চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে আসছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি বিভিন্ন কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু মহামারি করোনাভাইরাসে সব কিছু বন্ধ হয়ে গেলে তাঁরা বিপাকে পড়েন। সম্প্রতি তিনিসহ তাঁর বিদ্যালয়ের পাঁচজন শিক্ষক সরকারের কর্মসৃজন কর্মসূচি প্রকল্পে মাটি কাটার কাজ নেন। ২০২০-২১ অর্থবছরে দুই ধাপে ৮০ দিন কাজ করেন তাঁরা।

এ ঘটনা শুনে স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক এম এ মতিন বলেন, ‘একজন শিক্ষক কতটুকু অসহায় হলে শ্রমিকের কাজ করতে পারেন।’

ন্যায্য মূল্য পাননি

নুরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ২০০ টাকা মজুরি হারে তাঁদের ১৬ হাজার টাকা পাওয়ার কথা। গত ৩০ জুলাই ওই ইউনিয়নে শ্রমিকদের মজুরির টাকা বিতরণ করা হয়। ব্যাংক কর্মকর্তাদের কাছ থেকে মজুরির টাকা নিয়ে বের হতেই বারান্দায় বসে থাকা আলী হোসেন, ইউসুফ আলী ও আয়নাল হক মৃধা উপকারভোগীদের কাছ থেকে জোড় করে চার হাজার করে টাকা হাতিয়ে নেন। শিক্ষকরা এই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা হুমকিধমকি দিতে থাকেন। তাঁরা উপজেলা চেয়ারম্যানের নির্দেশে টাকা তুলছেন বলে জানা যায়। নিরুপায় হয়ে শিক্ষকসহ ৮৮৬ জন উপকারভোগী চার হাজার করে (প্রায় ৩৬ লাখ) টাকা দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, টাকা দিতে না চাওয়ায় গত মঙ্গলবার সকালে প্রধান শিক্ষককে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তিনি এই ঘটনার প্রতিকার চেয়ে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন মন্টু কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ‘তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক এম এ মতিন বলেন, ‘প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করব।’



সাতদিনের সেরা