kalerkantho

রবিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৮। ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৮ সফর ১৪৪৩

বরিশালে সাড়ে তিন হাত জায়গাও নেই

বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল

রফিকুল ইসলাম, বরিশাল   

৫ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বরিশালে সাড়ে তিন হাত জায়গাও নেই

টাকা থাকলে আপনি জায়গা ক্রয় কিংবা বহুতল ভবন বানাতে পারবেন, কিন্তু টাকা থাকলেও মৃত্যুর পর কবরের জন্য সাড়ে তিন হাত জায়গা স্থায়ীভাবে কেনার সুযোগ নেই। বরিশাল শহরের মুসলিম কবরস্থানে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

করোনা ও এর উপসর্গে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের লাশের সারি পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে করে তুলেছে। চলতি বছরের শুধু জুলাই মাসে বরিশাল বিভাগে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী অন্তত ৪০১ জন করোনায় ও উপসর্গে মারা গেছে। আর চলতি আগস্ট মাসের তিন দিনে ৬৫ জন মারা গেছে। গত দুই মাসে ১৩১ জনকে মুসলিম কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। 

বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় রয়েছে তিনটি কবরস্থান। আঞ্জুমান-ই হেমায়েত-ই ইসলাম কবরগুলো সংরক্ষণ করছে। গোরস্তান রোডের কবরস্থানে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে স্থায়ীভাবে জমি বিক্রি বন্ধ রয়েছে। একমাত্র বাঘিয়া এলাকার কবরস্থানে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য কবর সংরক্ষণের ব্যবস্থা আছে। ২০১২ সাল থেকে সেখানে অন্তত দুই হাজার ৫০০ জনকে স্থায়ী ও অস্থায়ী ভিত্তিতে দাফন করা হয়েছে। তবে এ ব্যবস্থাও এখন খুবই সীমিত। এ ক্ষেত্রে দীর্ঘ মেয়াদের জন্য কবর সংরক্ষণ করতে চাইলে এলাকাভেদে অনেকে টাকা ব্যয় করতে হবে। রূপাতলী এলাকার কবরস্থানটি এখনো চালু করা যায়নি। সেটির উন্নয়নকাজ চলমান।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রায় সাড়ে ৯ একর জমি নিয়ে গোরস্তান রোড়ের কবরস্থানটি। সেখানে মসজিদ, মাদরাসার পাশাপাশি পুকুরও রয়েছে। আশপাশে জনবসতি। তাই স্থান স্বল্পতার কারণে কবর সংরক্ষণের ব্যবস্থা সীমিত। বিদ্যমান কবরস্থানগুলোতে জায়গা বাড়ানোর উপায় নেই। এ জন্য চাইলেই তাঁরা যে কাউকে কবর সংরক্ষণ করার সুযোগ দিতে পারছেন না। যাঁরা আগে থেকে কবরের জায়গা কিনে রেখেছেন, তাঁদের স্বজনরাই শুধু মুসলিম কবরস্থানে স্বজনদের দাফন করতে পারছেন। এর বাইরে অস্থায়ীভাবে যেকোনো সময় দাফনের ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের মৃত্যুর পর তাঁদের কবর বিনা মূল্যে সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।

করোনা পরিস্থিতি কবর সংরক্ষণের ব্যবস্থাকে আরো নাজুক করে তুলেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আগে গড়ে প্রতিদিন একটি লাশ দাফন করা হতো। কিন্তু করোনাকালে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ-সাতটি লাশ দাফন করা হচ্ছে। যাঁরা আগেভাগে জমি কিনে রেখেছেন, তাঁরাই শুধু দাফন করতে পারছেন। আর যাঁদের জমি নেই, তাঁদের অস্থায়ীভাবে রাখা জমিতে দাফন করতে হচ্ছে।

আঞ্জুমান-ই হেমায়েত-ই ইসলামের হিসাব বলছে, জুন ও জুলাইয়ে ১৩১ জনকে দাফন করা হয়েছে। যাঁদের বড় একটা অংশই করোনায় ও এর উপসর্গে মারা গেছে। তবে বেশির ভাগ স্বজনই করোনার বিষয়টি গোপন করে। তাই কতজন করোনায় মারা গেছে—এর সঠিক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।

স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান আঞ্জুমান-ই হেমায়েত-ই ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান কুট্টি বলেন, করোনাকালে মৃত্যুর মিছিল বেড়েছে। তাই গোরস্তান রোডের কবরস্থানে স্থায়ীভাবে দাফনের জন্য এখন আর কোনো জমি নেই। তবে যাঁরা অস্থায়ীভাবে রাখা জমিতে কবর দিতে চান, তাঁদের সাহায্য করা হচ্ছে।



সাতদিনের সেরা