kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ আশ্বিন ১৪২৮। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৩ সফর ১৪৪৩

বেনাপোলে হেলে পড়েছে ভবন, দুর্ঘটনার আশঙ্কা

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি   

৪ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বেনাপোলে হেলে পড়েছে ভবন, দুর্ঘটনার আশঙ্কা

যশোরের বেনাপোল পৌরসভার কাস্টম হাউসের বিপরীতে পাঁচতলা একটি ভবন পাশের আরেকটি ভবনের গায়ে হেলে পড়েছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ভবনে বসবাসকারীসহ আশপাশের লোকজন। বিষয়টি ১০ মাস আগে বেনাপোল পৌরসভাকে অবহিত করা হলেও এখনো কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

পাশের চারতলা ভবন রবি চেম্বারের মালিকের ছেলে শরিফুল ইসলাম নয়ন বলেন, ‘২০১৮ সালে আমাদের পাশে বেনাপোলের ছোটআঁচড়া গ্রামের ইজাজুল হক ইজাজ একটি পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করেন। গত বছর ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ইজাজের ভবনটি আমাদের ভবনের ওপর হেলে পড়ে। এতে দুই ভবনসহ পাশের কয়েকটি ছোটখাটো ভবনের কয়েক শ মানুষ ঝুঁকিতে রয়েছে।’ তিনি জানান, ভবনটির দক্ষিণ পাশে ৪২ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১০ ফুট প্রস্থবিশিষ্ট রাস্তা ব্যবহারের পরিপ্রেক্ষিতে পৌরসভা ভবনের নকশার অনুমোদন দেয়, কিন্তু ইজাজ পৌরসভার নির্দেশ অমান্য করে রাস্তার জন্য ১০ ফুটের স্থলে সাত ফুট জায়গা রাখেন। বাকি তিন ফুট জায়গা নিজ দখলে নিয়ে ও আশপাশে কোনো জায়গা না ছেড়েই ভবন নির্মাণ করেন। বিষয়টি ২০২০ সালের ২০ সেপ্টেস্বর লিখিতভাবে বেনাপোল পৌরসভাকে অবহিত করা হলেও আজও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় মাহবুব হোসেন বলেন, ‘ভবনগুলো যেখানে নির্মাণ করা হয়েছে, সেখানে বড় গর্ত ছিল। নিচে মাটি ভরাট করে পাইলিং না করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।’ 

ভবনের আশপাশের অনেকে বলেন, এভাবে একটি ভবন আরেকটির গায়ে হেলে পড়তে পারে না। ভবন নির্মাণে ত্রুটি থাকার কারণেই এমনটা হয়েছে। এ অবস্থায় হেলে যাওয়া ভবনটির ব্যাপারে পৌর কর্তৃপক্ষ জরুরি ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের মালিক ইজাজুল হক বলেন, ‘আমার ভবনটি নির্মাণের সময় ওপরের তলার কিছু অংশ পাশের ভবনটির সঙ্গে লেগে গেছে। আমি কিছু অংশ কেটে ফাঁকা করেছি, বাকিটুকুও কাটা হবে। এতে তেমন কোনো ঝুঁকি নেই।’

বেনাপোল পৌরসভার সার্ভেয়ার মফিজুর রহমান বলেন, ‘এ নিয়ে রবি চেম্বার থেকে একটি আবেদন দিয়েছে। তবে তেমন কোনো অসুবিধা নেই। তার পরও আমাদের প্রকৌশলী সাহেব বিষয়টি দেখছেন।’ এ ব্যাপারে পৌর প্রকৌশলী মোশারফ হোসেন বলেন, ‘আমরা বিষয়টি দেখেছি। ভবন নির্মাণে কিছু টেকনিক্যাল সমস্যা রয়েছে। তখন পৌরসভা থেকে নোটিশও দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু ভবন মালিক কথা শোনেননি। এখন কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে পৌর কর্তৃপক্ষ এর কোন দায়ভার নেবে না।’



সাতদিনের সেরা